সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২০, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন

মাদক নিয়ন্ত্রণে স্ব অবস্থান হতে সচেতন হোন

mm
মনিরুল ইসলা (সাংবাদিক),সাপাহার,নওগাঁ।
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২০
  • ১২০বার পঠিত


মাদক আমাদের দেশে তিনশ’ বছরের একটি পুরনো সমস্যা। আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা গুলোর মধ্যে বর্তমানে জঙ্গি ও মাদক সবচেয়ে দুটি বড় সমস্যা।

জঙ্গি মোকাবেলার ক্ষেত্রে বলা চলে, সরকার অনেকাংশেই সফল। কিন্তু মাদকের ক্ষেত্রে যেভাবে আমাদের সফল হওয়ার কথা ছিল সেভাবে পারছি না- এটি কঠিন বাস্তবতা যা আমাদের স্বীকার করতে হবে।

বাংলাদেশ সরকার এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করলেও দেশের আনাচে-কানাচে ,শুধু তাই নয় প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলোতেও মাদকের ছড়াছড়ি।

বর্তমানে অনেকটা কমে আসলেও একেবারে পুরোপুরি ভাবে দমন করা সম্ভব হয়নি বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এই মাদক আসলে কিভাবে আমাদের রাষ্ট্রের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার জন্য কোথা থেকে এবং কিভাবে আসছে সে বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে অনেকটাই ধারণা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছি।

Adunit1

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমাদের দেশে হতে প্রায় ২১৭ কিলোমিটারের সীমানা হচ্ছে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে। তার মধ্যে ৬৩ কিলোমিটার হচ্ছে জলপথ, বাকিটা স্থলপথ। মাদক দ্রব্য গুলো একেক সময় একেক ভাবে তার রূপ বদল করছে। আজকে আমরা যে মাদকটাকে ইয়াবা বলে চিনি তা বিভিন্ন অঞ্চলে এবং ক্ষেত্র বিশেষে সময়ের বিবর্তনে এই ইয়াবা বিভিন্ন নামে পরিচিতি বিস্তার করেছে।

একসময় ফেনসিডিল ছিল ব্যাপক প্রচলিত মাদকদ্রব্য এবং এটির ছিল রমরমা ব্যবসা। তারও আগে মদ, আফিম, কোকেন, গাঁজা, হেরোইন ইত্যাদিও ছিল।

ফেনসিডিল যতটুকু লাভজনক ব্যবসা ঠিক তার চেয়ে ইয়াবা অনেক লাভজনক ব্যবসা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বলে সূত্র অনুযায়ী জানা যায়।আর ইয়াবা এত ছোট ট্যাবলেট যা ফেন্সিডিলের চেয়ে সহজে বহনযোগ্য বলে এটির প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। আর এই মরণঘাতী ইয়াবা আসে মূলত: মিয়ানমার থেকে।
আমরা কম-বেশি সবাই জানি, বিশেষ করে ইয়াবা আসার রাস্তা কোনটি। বিশেষ করে ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-চট্টগ্রাম, টেকনাফে প্রচুর গাড়ি চলাচল করছেএভাবেই কোনো না কোনো মাধ্যমে মাদক মিয়ানমার থেকে আমদানি হচ্ছে। যার ফলে আমাদের রাষ্ট্রে এসে এটি বিভিন্ন কায়দায় ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকায়। যার করাল গ্রাসে পড়ে ধ্বংস স্তুপে পা রাখছে আমাদের সোনার দেশের আগামীর ভবিষ্যৎ তরুণ-যুব প্রজন্ম।
গবেষকরা বলছেন, একজন ছাত্র নিজে নিজে কখনোই ইয়াবা-মাদকাসক্ত হয় না। এটি হয় প্রায় শতভাগ বন্ধু-বান্ধবের প্ররোচনায়। কারণ একটি ইয়াবার দাম যেখানে ২৫০ বা ৩০০ টাকা; জোগাড় করা একজন ছাত্রের পক্ষে সবসময় সম্ভব না। তখন মায়ের কাছ থেকে, কখনও বাবার পকেট থেকে চুরি করতে করতে একসময় সে ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে। এমনকি সে নিজেই মাদক ব্যবসায়ী হয়ে যাচ্ছে। এটা এমন এক রাস্তা, ইচ্ছা করলেও সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ নেই।

বর্তমানে বাংলাদেশে কতজন মাদকাসক্ত আছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এটা বের করা অত্যান্ত কঠিন। কারন কাউকে জিজ্ঞেস করা হলে সে কখনো স্বীকার করবে না- আমি মাদকাসক্ত। তার পরও একটা পরিসংখ্যানে জানা গেছে, দেশে ৭০ লাখের মতো মাদকাসক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ হচ্ছে ছেলে ও ২৬ শতাংশ মেয়ে। গবেষণায় আরো জানা গেছে, মাদকাসক্তদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ ব্যক্তিরই প্রাথমিক ধাপ সিগারেট।

বর্তমান সময়ের তরুণ ও যুব সমাজকে মনে রাখতে হবে যে, এ পি জে আবদুল কালাম বলেছেন, ‘স্বপ্ন মানে হচ্ছে আমরা রাতে ঘুমের মধ্যে যেটা স্বপ্ন দেখি সেটা নয়। যেটা অর্জন করার জন্য আমার ঘুমকে নষ্ট করি সেটাই স্বপ্ন’ তাই আমরা বাস্তবতার স্বপ্ন দেখতে চাই। দেখতে চাই সুন্দর সোনার বাংলাদেশ গড়ার। আর এটাই আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। মাদক দ্রব্য নিরসনে সকলে হাতে-হাত, কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে হয়তো আমাদের মাদক দ্রব্য নিরসন করা সম্ভব। তাই আসুন জাত,বর্ণ,গোত্র নির্বিশেষে এক হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ¯েøাগান তৈরী করি ও মাদক দ্রব্য নিরসনে প্রশাসনকে সহায়তা সহ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এটির ব্যাবস্থা গ্রহনে বদ্ধ পরিকর হই।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..