বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় অর্জন স্বাধীন দেশে জন্ম

mm
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৯বার পঠিত

লন্ডনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন ও সংকট’ শীর্ষক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র সৃষ্টি করে দিতে পারাই হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের সবচেয়ে বড় অর্জন। মায়ের ভাষায় কথা বলার সুযোগ করে দেওয়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান। বুদ্ধিভিত্তিক উপাদানের যোগান দিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে যে ভূমিকা রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তার নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই অর্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির জনক তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত ওয়েবিনারে প্রফেসর মাকসুদ কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতির পিতা হয়ে ওঠার পেছনে অন্যন্য ভূমিকা রেখেছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। একটি জাতির মুক্তি সংগ্রামের মূল লক্ষ্যে পৌঁছিয়ে দেয়ার পেছনে এই মহিয়সী নারীর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ১৯৬৯ এ গণঅভ্যূত্থানকালে আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে তার সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বঙ্গবন্ধুকে আলোচনায় অংশ নেয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি না নিয়ে জেল খানায় থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে সম্পূর্ণরূপে নির্দোষ ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে থাকার জন্য বলেছিলেন বঙ্গমাতা। মানুষের জন্য, দেশের মুক্তি সংগ্রামের জন্য কোনো স্ত্রী তার স্বামীকে কারাগারে থাকতে বলেন এমন নারীর সংখ্যা খুবই বিরল।

শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জন ও সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম ও সাবেক ইনফরমেশন কমিশনার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের আয়োজকদের এ ধরনের একটি সমসাময়িক ওয়েবিনার আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেকেই পাশ্চাত্যের অক্সফোর্ডের সঙ্গে তুলনা করেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ২৬ শতাংশ রিসার্চ গ্রান্ড পেয়ে থাকে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়িত্বশাসিত হলেও বাজেটে গবেষণার জন্য তেমন বরাদ্দ নেই।

প্রফেসর সাদেক সাদেকা হালিম জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৭টি কলেজ রয়েছে সেই সঙ্গে সান্ধ্যকালীন কোর্স পরিচালনা করার কারণেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধি অনেক বড় হয়েছে। সামাজ বিজ্ঞান অনুষদে ৩০০ শিক্ষকের বিপরীতে ৬ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে যা রীতিমতো একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর সমান।

যুক্তরাজ্যের লিংকন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার ও কমনওয়েলথ অ্যাডভাইজার কমিশনের পরামর্শক ডক্টর মাহফুজুর রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনগুলো ঠিকমতো উপস্থাপন করতে না পারার অভাব রয়েছে। বিশ্ববিদ্যারয়ের অনেক অর্জন রয়েছে, শিক্ষকদের যোগ্যতা রয়েছে কিন্তু পাবলিক রিলেশন টিম খুবই দুর্বল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

ডকুমেন্টেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে গেছে বিষয়টিকে স্বীকার করে শতবর্ষকে সামনে রেখে নানা পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান প্রফেসর মাকসুদ কামাল। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আগামী বছর লন্ডনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন তুলে ধরা হবে। লন্ডনের অ্যালামনাইদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনে একসঙ্গে কাজ করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ফেইসবুক ও ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ঘণ্টার ওই আলোচনাটির সঞ্চালনা করেন একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ইউকের ম্যানেজমেন্টের সদস্য তানভীর আহমেদ। আলোচনার প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ইউকের ম্যানেজমেন্টের সদস্য থার্ড সেক্টর কনসালটেন্ট বিধান গোস্বামী, শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সোনালী ব্যাংক ইউকের সাবেক ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ আমীরুল ইসলাম চৌধুরী, ব্যারিস্টার অজয় রায় রতন, ব্যারিস্টার চৌধুরী হাফিজুর রহমান, ব্যারিস্টার কাজী আশিকুর রহমান, আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম, আইনজীবী ইউসূফ ইকবাল, আইনজীবী ঝুমুর দত্ত, রওশন আরা জাহান পলি, সংবাদ পাঠিকা হিমিকা আজাদ, রেহানা ফেরদৌস মনি ও সঙ্গীত শিল্পী শুভ্রা মুস্তাফা ।

এর আগে অনলাইনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার স্মৃতিচারণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি রকিব উদ্দীন আহমেদ। ঢাকা থেকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সিনিয়র সহ সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার, বাংলাদেশ এনার্জি কমিশনের সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দীন আহমেদ।

এছাড়াও করোনাকালীন সময়ে যুক্তরাজ্যে অ্যালামনাইদের কার্যক্রম ও ক্লাবের ভবিষ্যত কর্ম পরিধী নিয়ে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ম্যানেজমেন্টের অন্যতম সদস্য বাংলাদেশ ল অ্যাসোসিয়েশন ইউকের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আলম সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও যুক্তরাজ্যের লিংকন্স ইউনিভার্সিটির রিসার্চ স্কলার শাহ রিদওয়ান চৌধুরী, এডুকেশন কনসালটেন্ট গোলাম মর্তুজা, সৈয়দা নাসরিন ভূঁইয়া, সুপ্রতীম দেব, আইনজীবী মামুন আল ফিরোজী, রথীন্দ্র গোস্বামী, শায়লা শিমলা, মনির সারোয়ার, অ্যাডভোকেট কাওসার আলম হীরা, সোহেল আহমেদ, আসাদ কিবরিয়া তানিন ও মনির সরকারসহ যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রায় অর্ধ শতাধিক অ্যালামনাই। অনুষ্ঠানে শিল্পী সারোয়ার-ই আলমের আধুনিক গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। মনোজ্ঞ সঙ্গীতানুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে ইউকের সদস্য সংবাদ উপস্থাপক কিশোয়ার মুনিয়া।


এ জাতীয় আরো খবর..