তারাগঞ্জে আবারও প্রতীমা ভাংচুর আটক-২

দিপক রায়, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
দিপক রায়, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি দিপক রায়, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৪১ অপরাহ্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | আপডেট: ৫:০৪ পূর্বাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২১

রংপুরের তারাগঞ্জে দুই দিনের ব্যবধানে আবারও প্রতীমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের দÿিণ নারায়নজন জেলেপাড়ায় বাড়ির ভিতরের পারিবারিক মন্দিরের রাধা কৃষ্ণ প্রতীমা ভাংচুর করা হয়। বাড়ির মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই জনকে আটক করে রংপুর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তারাগঞ্জ থানা পুলিশ ও অভিযোগকারীর অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ÿিণ নারায়নজন জেলেপাড়া গ্রামের মনোরঞ্জন দাসের বাড়িতে ব্যক্তিগত মন্দিরের রাধা কৃষ্ণ প্রতীমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির মালিক মঙ্গল দাস ও আরতী রানী দাসের পুত্র মনোরঞ্জন দাসের অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দেহ ভাজন দুইজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে রংপুর জেল হাজতে প্রেরণ করেছে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ। 

সরেজমিনে গিয়ে এবং জানা যায়, দÿিণ নারায়ণজন জেলে পাড়া গ্রামের মনোরঞ্জন দাসের সাথে গত মঙ্গলবার সকাল হতে ওই মন্দিরের পাশে পায়খানা করাকে কেন্দ্র করে বিবাদ চলে আসছিল। বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে জাল নিয়ে কাকা ন্যারগেন্দু দাসের সাথে পার্শ্ববর্তী যমুনেশ্বরী নদীতে মাছ ধরতে যায় মনোরঞ্জন। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে মাছ ধরে বাড়ি ফিরে টিউবওয়েলে হাত মুখ পরিস্কার করতে গেলে তার দৃষ্টি যায় বাড়ির ভিতরে থাকা রা কৃষ্ণ মন্দিরের দিকে। সেখানে জ্বলতে থাকা বৈদু্যতিক বাতির আলোতে তিনি দেখতে পায় তার মন্দিরের রাধা কৃষ্ণ প্রতীমা উপুর হয়ে পড়ে রয়েছে। এ দৃশ্য দেখে মনোরঞ্জন তার মা আরতী রানী দাস ও কাকা ন্যারগেন্দু দাসকে ডাকলে সবাই মন্দিরের কাছে গিয়ে খেতে পান রাতের আঁধারে কোন এক সময় দুর্বৃত্তরা পাটখড়ির বেড়া কেটে মন্দিরে প্রবেশ করে রাধা কৃষ্ণ প্রতীমা ভাংচুর করে পালিয়ে গেছে। ঘটনাটি দ্রম্নত ছড়িয়ে পড়লে ভীর জমতে থাকে মনোরঞ্জনের বাড়িতে। এরই মধ্যে সকাল প্রায় ১০টার দিকে মনোরঞ্জন তার মুঠোফোনের মাধ্যমে বিষয়টি মৌখিকভাবে তারাগঞ্জ থানায় অবহিত করে। খবর পেয়ে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং তারাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও হাড়িয়ারকুঠি ইউপি চেয়ারম্যান হারম্নন-অর-রশিদ বাবুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি কুমারেশ রায়, সাধারণ সম্পাদক পাপন দত্ত ও সাংগঠনিক সম্পাদক হরলাল রায়। পরে মনোরঞ্জন প্রতিবেশি মৃতঃ হুমাচন্দ্র দাসের পুত্র মদন চন্দ্র দাস লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ ওই দিনই দুপুর ১ টা ২০ মিনিটে নিজ নিজ বাড়ি থেকে অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন এবং দুপুর আড়াইটার দিকে রংপুর জেল হাজতে প্রেরণ করেন। 

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি ফারম্নক আহম্মেদ ও তদন্ত্মকারী কর্মকর্তা এসআই মশিউর রহমান বলেন, মন্দির ও বাড়ির মালিক মনোরঞ্জনের নাম উলেস্নখসহ লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করে দুপুরেই আদালতের মাধ্যমে রংপুর জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত্ম চলমান রয়েছে। 

উলেস্নখ্য, গত মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের মেনানগর বানিয়াপাড়া গ্রামের স্বর্ণকার জীবন রায়ের বাড়ির মন্দিরের মনসা প্রতীমা ভাংচুর হয়। এঘটনায় জীবন রায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি মামলা দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত্ম কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ। মাত্র দুইদিনের ব্যবধানে আবারও একই কায়দায় প্রতীমা ভাংচুর হওয়ায় উপজেলা জুরে শুরম্ন হয়েছে নানান জল্পনা-কল্পনা। আতঙ্ক শুরম্ন হয়েছে উপজেলার সনাতন (হিন্দু) সম্প্রদায়ের মধ্যে।