বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ষড়য‌ন্ত্রের প্রতিবা‌দে মান্দায় ম‌হিলা আওয়ামী লী‌গের বি‌ক্ষোভ সমা‌বেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান মহিমাগঞ্জ চিনিকলের আখচাষী ও শ্রমিক কর্মচারীদের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ ফুলছড়িতে ইউনিয়ন যুবলীগের অফিস উদ্বোধন করলেন ডেপুটি স্পিকার গোবিন্দগঞ্জে উগ্র-মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় রায়গঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যু দুর্গাপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের আত্মহত্যা বঙ্গোপসাগর থেকে ৩ লাখ ইয়াবাসহ সাত মিয়ানমার নাগরিক আটক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কার্য্য হুমকি প্রদানকারী মমিনুল হকের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন ধামইরহাটে আওয়ামী মহিলালীগের জঙ্গিবাদ- সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী র‌্যালি ও বিক্ষোভ সমাবেশ ধামইরহাটে কর্মজীবি ল্যাকটেটিং মাদার হেলথ ক্যাম্পে সেবা পেল ৪ শতাধিক মা খুলনা মহানগরীতে মাদক বিরোধী অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৪ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ও পুনর্বাসন সোসাইটি কেন্দ্রীয় যুব কমান্ডের মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা শাখার কমিটি গঠন রাজশাহীতে পৌরনির্বাচন কে কেন্দ্র করে তৃনমূল সিলেকশন ভোট নিয়ে অসন্তোষ

খুলনায় লাইসেন্স না থাকায় ২৬টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তালা

মোঃ মাইনুল ইসলাম, খুলনা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় শনিবার ১৪ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫৩ বার পঠিত

খুলনার অলি-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মত ছেয়ে গেছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তার বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেরই লাইসেন্স নবায়ন নেই। লাইসেন্স ছাড়াই প্রতিষ্ঠান চলছে আরো প্রায় অর্ধশত। অন্যদিকে লাইসেন্স না থাকার অভিযোগে খুলনায় ২৬টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
ভুয়া ডাক্তার, ভুল রিপোর্ট, অপারেশনের ত্রুটির কারণে রোগী মৃত্যুর খবর হরহামেশা ছড়িয়ে পড়ে। কোনো ধরনের তদারকি না থাকায় নিয়ম না মেনেই দিনের পর দিন এসব প্রতিষ্ঠান সেবা দিয়ে আসছে। এছাড়াও টেস্টের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালের মাধ্যমে রোগীদের ব্যক্তিগত হাসপাতালে নিয়ে আসা, মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত থাকাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে এসব ব্যক্তিগত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে।

এরই মধ্যে গত ৯ নভেম্বর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত একটি ক্লিনিকের একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বার থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও নগদ টাকাসহ দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এভাবে বিভিন্ন সময়ই ধরা পড়েছে স্বাস্থ্যসেবার নামে এ রকম নানা অপকর্মকারীরা।
নগরীর বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত আইন ছাড়াই চলছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এসব হাসপাতালে কমপক্ষে তিনজন এমবিবিএস চিকিৎসক, ছয়জন নার্স ও দুইজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী থাকার কথা থাকলেও মানছে না অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এছাড়াও অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন (টেক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর) ও বিআইএন (বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর), সঙ্গে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র।

নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঘুরে বেরিয়ে আসে নানা তথ্য। হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালানোর লাইসেন্স আছে কিনা তা জানতে চাইলে অনেকে দেখাতে থাকে নানা অযুহাত। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা তাদের লাইসেন্স দেখাতে না পারলেও অযুহাত দিচ্ছেন অনলাইনে আবেদনের। বছরের পর বছর লাইসেন্স ছাড়াই এভাবে ব্যক্তিগত হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত হাসপাতাল ঘুরে পাওয়া যায়নি নির্ধারিত এমবিবিএস চিকিৎসক ও নার্সদের। এগুলো নানা অযুহাতে এড়িয়ে যান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন মহানগরীতে ২৩২টি ক্লিনিকের মধ্যে নবায়ন রয়েছে ৭০টি। লাইসেন্স নেই ৩৯টি ক্লিনিকের। লাইসেন্স আছে তবে নবায়নের জন্য আবেদন করেনি অনলাইনে এমন সংখ্যা ১৪টি। এছাড়া ৪৫টি ক্লিনিক আবদনের প্রেক্ষিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া জেলায় ১৯টি বেসরকারি হাসপাতালসহ ৩৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ নবায়নের জন্য কোন আবেদন করেননি। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্রগুলো জানায় যারা আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশ হাসপাতাল ক্লিনিকের প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল না থাকলেও তা অনলাইনে কাল্পনিক নাম ও আবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এসব কাজে তাদের সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন কর্মচারী। পরিদর্শনের সময় বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার শর্তে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খুলনার পরিচালক ডাঃ রাশেদা সুলতানা বলেন, খুলনায় আমাদের অভিযান শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে লাইসেন্স না থাকার কারনে খুলনার ২৬টি বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর লাইসেন্সের জন্য যেসব আবেদন জমা পড়েছে সে সকল প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাইসেন্স ছাড়া কোন বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালানো যাবে না এবং প্রতিদিনই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযান চলবে বলে জানান বিভাগের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..