মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে পৌরনির্বাচন কে কেন্দ্র করে তৃনমূল সিলেকশন ভোট নিয়ে অসন্তোষ

mm
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় বুধবার ২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৪বার পঠিত



রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা বানচাল করে তৃনমূল মেয়র পদপ্রার্থী সিলেকশন ভোট করার অভিযোগ উঠেছে।

তবে এ নির্বাচনে অন্য প্রার্থীর উপস্থিতি ছাড়াই মেয়র প্রাথী ফয়সাল আহমেদ রুনুর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারি খানসহ অনন্য মেয়র প্রার্থীরা। তবে রুনু সকল প্রার্থীদের করা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।জানা গেছে , গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে নওহাটা মহিলা কলেজে পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার কথা ছিলো। চলিত সভার এক পর্যায়ে আসন্ন পবার নওহাটা পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল ভোট গ্রহনের কথা উত্থাপন করেন ফায়সাল আহমেদ রুনু। তবে পৌর নির্বাচনে প্রার্থীতা জানান দেওয়া ওই সময় বেশিরভাগ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন না। এ নির্বাচনে ভোট দেখানো হয়েছে- ফয়সাল আহমেদ রুনু (৩৫) ভোট, আব্দুল বারী খাঁন (২৩) ভোট, হাফিজুর রহমান হাফিজ ( ১) ভোট, মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল ও সারওয়ার জাহান (০) ভোট পেয়েছেন।

তবে এ তৃণমূল সিলেকশন নির্বাচন নিয়ে পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি পৌর নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসা যেত।নওহাটা তৃনমূল সিলেকশনের বিষয়ে পৌর মেয়র প্রার্থী আবদুল বারি খান বলেন, পৌর আওয়ামী লীগের ৬৫ জন সদস্যের মধ্যে সভায় ৩৪ জন উপস্থিত ছিলেন। এরপর কলেজের গেট বন্ধ করে তৃণমূল নির্বাচন করেন। যদিও এ তৃণমূল সিলেকশন নির্বাচনের কোন কথা ছিলো না। রুনু একক প্রভাব খাটিয়ে এ নির্বাচন করেছে। আমি রুনুর এমন কর্মকাণ্ডের বিষয় আমার দলীয় নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি।পৌর মেয়র প্রার্থী হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান, তৃনমুল হোক আর যে কোন ভোট হোক পুর্বে নির্ধারিত তারিখ ঠিক করতে হবে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। ভোট গণনার সময় সকল প্রার্থী র এজেন্ট এবং প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবে, ফলাফল ঘোষনার পর রেজুলেশন করে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের সাক্ষর পর সেটা কার্যকারীতা পায়। সেখানেই আমাদের অনুপস্থিতিতে পরিকল্পিতভাবে এই ভোটের আয়োজন করা হয়েছে এবং সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের কোন সাক্ষর ছাড়া সাদা কাগজে রেজুলেশন করে যেটা কারো কাছেই গ্রহনযোগ্য নয়।পৌর মেয়র প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান মানজাল জানান, নওহাটা পৌর আওয়ামী লীগের ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির মধ্যে ১১ জন মারা গেছেন এবং ১৫ জন অনুপস্থিত ছিলেন, তাহলে কিভাবে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। এটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে এটা একটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৃণমূলের ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মেয়র প্রার্থী ফয়সল আহমেদ রুনু প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তৃণমূল ভোট চেয়ে আমি তাদের দাবির প্রেক্ষিতে অংশ গ্রহণ করি। মূলত সবাই ভোট চেয়েছে তখন যারা উপদেষ্টা আছেন তারা সম্ভবত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলেই ভোট দিয়েছেন।ভোট শুরু হওয়ার আগে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান কেন্দ্র থেকে কোন কারণ ছাড়া বের হয়ে যায়। এরপর ভোটে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারি খান অংশ গ্রহণ করলেও ভোট কম পাওয়ার কারণে তিনি মধ্যে ফলাফল জেনে বেরিয়ে আসেন। আমি প্রথম থেকে বলছি দল বা নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবেন আমি মেনে নিবে এবং সেই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবো। তবে নেত্রী যাচাই বাছাই শেষে আমাকে মননোয়ন দিবেন এটি আমি বিশ্বাস করি। এসময় ফয়সল আহমেদ রুনু তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি গোষ্ঠী আমার জনপ্রিয়তা দেখে ইশ্বার্নিত হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াছিন আলী জানান, আমি ঘটনাটি শুনেছি, এ বিষয়ে আমি আমার দলীয় হাইকমান্ডের সাথে কথা বলবো । নির্বাচন হোক আর যায় হোক গঠনতন্ত্রের বাহিরে একচুল যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..

Adcash

Adcash