মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

জামিনে এসেই তান্ডব চালালো সাংবাদিক পেটানো সেই চেয়ারম্যান

mm
রাকিবুল হাসান,, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৬বার পঠিত



সাংবাদিককে মেরে জেল হাজতে যাওয়া কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের প্রভাবশালী চেয়ারম্যান একেএম মাহমুদুর রহমান রোজেন জামিনে বের হয়ে এসে শোডাউন করে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তান্ডব চালিয়েছেন। এ সময় এক সরকারি কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতাকে মারধর করেন তিনি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রধান ফটক, পাবলিক লাইব্রেরি ও প্রেসক্লাবের দরজা, জানালা ভাঙচুর করেন। চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনীর এমন বেপরোয়া আচরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ওই এলাকার লোকজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে জামিন পেয়ে জেল হাজত থেকে বের হয়ে আসেন চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান রোজেন। কুড়িগ্রাম থেকে রাত ৮টার দিকে ভুরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে তার সমর্থকরা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে তাকে নিয়ে শহরে শোডাউন করে। এ সময় লোকজন প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তালাবদ্ধ প্রধান ফটকে হামলা চালায়। পরে ইউএনওর বাসভবনের দিকে মিছিলটি রওনা হলে পুলিশ খবর পেয়ে মিছিলটি বাজারের দিকে ফেরত পাঠায়। উপজেলা চত্বর থেকে মিছিলটি বের হয়ে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পাবলিক লাইব্রেরির চেয়ার-টেবিল, প্রেসক্লাবের দরজা, জানালা ভাংচুর করে। পরে মিছিল নিয়ে শহরে মহড়া দেবার সময় সাবরেজিস্টার ফখরুল ইসলামকে পেয়ে তাকে লাঞ্ছিত করে। পরে উত্তর ধরলা মটর-মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও জননী বস্ত্রালয়ের মালিক মহাদেব সাহাকে দোকান থেকে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় ফেলে ব্যাপক মারধর করে। আহত মহাদেব সাহাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ব্যাপারে উত্তর ধরলা মটর-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যান কর্তৃক সাধারণ মানুষ প্রায় সময় হামলার শিকার হয়ে আসলেও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করে আসছে। চেয়ারম্যানের প্রভাবে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

ভূরুঙ্গামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ারুল হক জানান, চেয়ারম্যানের ভয়ে উপজেলার মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি লোক ভাড়া করে এবং ৪০ দিনের কর্মসূচির সুবিধাভোগী নারী-পুরুষদের প্রলোভন দেখিয়ে মিছিলে নিয়ে এসেছেন। পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এমন হামলা চালানো হয়েছে। চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ আতিয়ার রহমান জানান, ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনা শুনেছি। তবে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, চেয়ারম্যানের এমন আচরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে উপজেলাবাসী। হামলার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসম্বর বিকেলে ভূরুঙ্গামারী প্রেসক্লাব সম্পাদক এমদাদুল হক মন্টুকে মাথায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেন চেয়ারম্যান একেএম মাহমুদুর রহমান রোজেন। এ ঘটনায় এমদাদুল হক মন্টু বাদী হয়ে ১৩ ডিসেম্বর ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা করলে ১৪ ডিসেম্বর অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে পুলিশ জেল হাজতে পাঠায়।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..