বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ১১:২২ অপরাহ্ন

মডেল খামারি সোহেল রানা

mm
সাকিব হোসেন পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় শনিবার ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫১বার পঠিত

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়নের রূপগ্রাম গ্রামের কৃষক আজিজার রহমানের ছেলে স্নাতকোত্তর সোহেল রানা (৩৭)। নিম্নমধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের ছেলে সোহেল রানা কিছুদিন ঢাকায় চাকরি করার পর নিজ গ্রামের খাড়িপাড়া এলাকায় পৈতৃক ১২ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন সমন্বিত কৃষি খামার।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার সময় ক্যাম্পাস প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকার একটি কাগজে সাংবাদিকতাও করেন। স্নাতকোত্তর শেষে ঢাকার ওই মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের ফিচার বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তি পাতায় ৩০ হাজার টাকা বেতনে কাজও শুরু করেন। সেখানে কাজ করেন প্রায় চার বছর। কিন্তু সোহেল রানা কাজে মন বসাতে পারছিলেন না। নিজের কিছু করার কথা সব সময়ই ভাবতেন। সব সময় তার গ্রামের কথা, কৃষি ও কৃষকের কথা মনে হতো। ভেতরে ভেতরে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল সেই খামার করার স্বপ্ন। সোহেল পত্রপত্রিকায় দেশের বিভিন্ন স্থানের সফল খামারিদের গল্প আগ্রহ নিয়ে পড়তেন এবং সুযোগ পেলেই সেসব খামার পরিদর্শনে যেতেন। এই ভাবনা থেকেই ২০১৫ সালে ঢাকার চাকরি ছেড়ে দিয়ে নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়নে নিজ গ্রাম রূপগ্রামে ফিরে আসেন। বাড়িতে এসে স্বজনদের জানান নিজের স্বপ্নের কথা। স্বাধীনভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়টি বার বার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল।

এরপর তিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করেন। গতবছর তিনি সাপাহার উপজেলার গোডাউনপাড়া এলাকায় ৭০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক কর্ম সংস্থান হয়েছে ২৫-৩০ জন মানুষের তাঁর খামারে রয়েছে আম, লিচু, পেঁপে, মাল্টা, বলসুন্দরী বরই, কাশ্মীরি বরই, ড্রাগন ফল, বিদেশি প্যাশন ফল, জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন, পুষ্টিকর ফল অ্যাভোকাডো, খাটো জাতের নারিকেল, লেবুসহ নানা প্রজাতির ফলের গাছ। খামারে আরও আছে বাসক, তুলসী, নিম, নীল অপরাজিতা, সাদা লজ্জাবতীসহ নানা প্রজাতির ঔষধি গাছ। আছে বিভিন্ন জাতের ফুলগাছও। এ ছাড়া তিনটি পুকুরে মাছ চাষ করছেন সোহেল রানা। করছেন হাঁস-মুরগি, কবিতর ও টিয়া পালন।
সমন্বিত খামারের পাশে আরও ১২ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন আমের বাগান ও ৩০ বিঘা জমিতে বলসুন্দরী ও কাশ্মীরি বরই। তাছাড়াও খামারের পাশাপাশি ২০০ প্রজাতির চারা উৎপাদন করে নার্সারি প্রতিষ্ঠিত করেছেন যেখানে রয়েছে দেশি ও বিদেশি চারা। মডেল খামারি সোহেল রানার বার্ষিক আয় প্রায় ১৮ থেকে ২০ লক্ষ টাকা।

সোহেল রানা বলেন, ভবিষ্যতে এই এলাকাকে খামারকেন্দ্রিক কৃষি ও গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্র গড়তে হলে শিক্ষিত যুবকদের প্রয়োজন। অনেকেই বলে যে শিক্ষিত মানুষ চাকরি করতে হবে কিন্ত তা নয়, বরং কৃষি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য অধিক মানসম্মত ফসল উৎপাদন এবং খাদ্য পুষ্টি নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষিতদের কৃষি কাজে এগিয়ে আসতে হবে।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..