সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন

কমরেড হেমন্ত সরকারের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

mm
ফরহাদ খান, নড়াইল
  • আপডেট সময় সোমবার ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৩৫বার পঠিত

বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলন তথা ঐতিহাসিক তে-ভাগা আন্দোলনের অগ্রসৈনিক প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা কমরেড হেমন্ত সরকারের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভোরে নড়াইলে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। জন্মভূমি নড়াইল সদর উপজেলার বড়েন্দা গ্রামে তাকে সমাধিস্থ করা হয়েছে।

এদিকে, কমরেড হেমন্ত সরকার ১৯১০ সালে বড়েন্দা গ্রামে গরিব কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

হেমন্ত সরকারের জীবনাদর্শ থেকে জানা যায়, দারিদ্রের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি তিনি। জীবনের প্রথম দিকে নড়াইলের প্রতাপশালী জমিদারদের ‘লাঠিয়াল’ হিসেবে কাজ করতেন। পরে উপমহাদেশের প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা কমরেড অমল সেনের সংস্পর্শে এসে মার্কসবাদের দীক্ষা নেন। পরবর্তীতে কমিউনিস্ট আন্দোলনে নিজেকে উৎসর্গ করেন হেমন্ত সরকার।

চল্লিশ দশকে তে-ভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সাংগঠনিক দক্ষতা ও যোগ্যতার বলে প্রথমে পূর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (এম এল) এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির (এম এল) যশোর জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন হেমন্ত সরকার। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অপরিসীম ভূমিকা রাখায় তাকে প্রায় ৬০ বছর কারাগারে এবং আত্মগোপনে থাকতে হয়।  

এদিকে, হেমন্ত সরকারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার বিকেল তিনটায় তার জন্মভূমি নড়াইলের বড়েন্দা গ্রামে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রধান বক্তা নড়াইল জেলা ওর্য়াকার্স পার্টির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড নজরুল ইসলাম। সভায় সভাপতিত্ব করবেন কমরেড নির্মল গোলদার।

কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে-হেমন্ত সরকারের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনা সভা।

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত থাকবেন-ওয়ার্কার্স পার্টি নড়াইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কমরেড আমিরুল ইসলাম, মলয় কান্তি নন্দী, শাহজাহান মৃধা, নারদ বালা, শচীন্দ্রনাথ অধিকারী, স্বপ্না সেন ও সৌরভ গোলদার।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও হেমন্ত সরকার স্মৃতিরক্ষা যুব কমিটির উদ্যোগে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশের ওর্য়াকার্স পার্টি (মার্কসবাদী), জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টসহ (এনডিএফ) বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে হেমন্ত সরকারের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..