মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন

ভুরুঙ্গামারীতে একই জমিতে একাধিক ফসল চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

mm
রাকিবুল হাসান,,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫০বার পঠিত

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মূলত একটি কৃষি প্রধান এলাকা। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই সারা বছর জুড়ে বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি চাষ করেন কৃষকরা। মাত্র কয়েক বছর আগেও এ এলাকার জমিগুলোতে একটি ফসল চাষ করে কৃষকদের বসে থাকত হতো। সেখানে এখন জমি গুলো বছরে একটি দিনও অনাবাদি থাকছে না। সারা বছরই কোন না কোন ফসলের চাষ হচ্ছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গ্রামীন কৃষকদের মাঝে পরিবর্তন এসেছে। কৃষি বিভাগ কর্তৃক উদ্ভাবিত ফসল ফলনে নতুন নতুন পদ্ধতি গ্রহন করছেন কৃষক। প্রযুক্তিগত কারণে এখন কৃষকেরা একই একসাথে একাধীক সবজি চাষ করছে। একই জমিতে একাধীকসসবজি উৎপাদিত হওয়ায় কৃষকের মুখে প্রশান্তির হাসি ফুটেছে। ফলে কৃষকেরা আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে।

জমিতে একই সাথে দুই বা ততোধিক ফসলের চাষ করা একাধিক সবজি ক্ষেত সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কোন জমিতে নিচে মূলা, গাজর, সবজি চাষ উপরে অন্য ধরণের মাচাং তৈরি করে দেয়া হয়েছে দেশী লাউয়ের, জালি কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি লতা। একইভাবে আবার কোন কোন জমিতে নালা কেটে লাগানো হয়েছে শীতকালীন ধনিয়া পাতা, মরিচ, উপরে মাচাং দিয়ে চাষ করা হচ্ছে কাকরল আর করলা।

একই জমিতে একাধিক ধরণের ফসল আবার অনেকেই সাথী ফসলের চাষও করছেন। সে রকম জমি গুলোতে দুইটির নালার মাঝখানের জায়গায় চাষ করা হয়েছে নানা ধরণের শাক, মূলা, গাজর, বেগুন। আবার একইভাবে একই জমিতে বেগুন গাছের মাঝখানের সারিতে রোপন করা হয়েছে মূলা, বরবটি ও শিম।

কথা হয় ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রী কলেজের সহকারি অধ্যাপক আবু বক্কর সিদ্দিক এর সাথে। তিনি জানান, কলেজের ১ একর ৪৪ শতক জমি লীজ নিয়েছেন। সেখানে তিনি লাল শাক, লাউ,কুমড়া, মূলা, গাজর ,টমেটো, বেগুন সহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন। এরিয়া ভাগ করে এক সাথে চাষ করেছেন বাঁধা কপি, পেঁয়াজ ও কচু লাগিয়েছেন। অপর দিকে এক সাথে লাগিয়েছেন ফুলকপি ও আলু লাগিয়েছে। এখন তিনি প্রতি কেজি পেঁয়াজের ফুল বিক্রি করছেন ৭০ টাকায়। পেঁয়াজ ও কপি ওঠে গেলে আলু থাকবে। আলু ওঠলে জমিতে থাকবে মুখি কচু। যাতে তার লাভের অংশই বেশি।

উপজেলার সদর ইউনিয়নে নলেয়া গ্রামের আরেক কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর আগে থেকে এক সাথে ফুলকপি, মরিচ, বাঁধা কপি ও পেঁয়াজ চাষ করছি। প্রথমে মনে হচ্ছিলো তিনটা ফসল একসাথে হবে না, এখন দেখছি সবগুলোই ভাল হয়েছে। এর মধ্যে ফুল কপি ও বাঁধা কপি বিক্রি করে দিয়েছি। মরিচ নামতে শুরু করেছে। প্রতি মণ কাচা ৩২০০ টাকায় বিক্রি করা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, একই জমিতে দুতিন রকমের ফসল বিভিন্ন লাইনে বুনে মিশ্র ফসলের চাষ করা হয়। এক্ষেত্রে পুরো জমির ফসল একবারে উঠবেনা। এর ফলে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার যেমন নিশ্চিত হয়।

সেই ভাবে বিভিন্ন রকম ফসল একসঙ্গে চাষ করলে ফসলে রোগ ও পোকার উপদ্রব কম হয় এবং মোট উৎপাদন বেশী হয়। এতে কৃষক লাভবান হবেন।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..

Adcash

Adcash