বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন

রাজীবপুর চরাঞ্চলের মানবতার ফেরিওয়ালা শিক্ষক আমিনুর রহমান

mm
রাকিবুল হাসান কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় রবিবার ৩ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২৭বার পঠিত

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার চারিদিকে নদীবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন একটি ইউনিয়ন কোদালকাটি। ব্রহ্মপুত্র এবং সোনাভরি নদের ভাঙ্গা-গড়ার মধ্যদিয়েই জন্ম জন্মান্তর ধরে ছত্রছন্ন দ্বীপচর এটি। এ ইউনিয়নে রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার লোকের বসবাস। বছরের বর্ষা মৌসুমে ভরা বন্যায় তাদের চলাচলের বাহন নৌকা বা কলা গাছের ভেলা। বাকী সময় ধূধূ বালু চরের পায়ে হাটা মেঠো পথটি বংশ পরমপরায় তাদের নিত্য সঙ্গি।

এমনই জীবন বৈচিত্রে মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন অত্র ইউনিয়নের আমিনুর রহমান। প্রায় এক যুগ ধরে মানব সেবায় সেচ্ছাশ্রমে নিয়োজিত রেখেছেন নিজেকে। এতে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও ভালবাসা লাভ করেছেন চরাঞ্চলের অসহায়, দুস্থ্য, ছোট-বড় সকল মানুষের।

আমিনুর রহমান পেষায় একজন শিক্ষক। স্ত্রী, এক ছেলে এবং এক কন্যা সন্তান নিয়ে তার সুখের সংসার। স্থানীয় চর সাজাই দাখিল মাদ্রাসায় শরীরচর্চা শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন প্রায় ২০ বছর। শিক্ষকতার পাশাপাশি যতটুকু সময় পান চরবাসির জন্য উৎসর্গ করে নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করে চলছেন অবিরাম। নিজস্ব শ্রম এবং অর্থায়নে সব সময় পাশে দাড়ান অসহায় ও দুস্থ্য মানুষের। বন্যা মৌসুম শুরু হলে নিজস্ব নৌকা নিয়ে বাড়ী বাড়ী গিয়ে কখনও শুকনো খাবার, কখনও ঔষুধ আবার কখনও নগদ অর্থ পৌছে দেন তিনি। তার কাজে উৎসাহিত হচ্ছে এলাকার তরুণ সমাজ। সহযোগিতার হাত বাড়ান অনেকেই। একমাত্র ছেলে সহপাঠিদের সাথে নিয়ে বাবার মতই মানুষের সেবায় কাজ করছে অবসর সময়ে।

শুস্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে গেলে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় নদীতে কোথাও হাটু পানি, কোথাও কোমর পানি থাকে। এতে মানুষ চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এসব কষ্ঠ লাঘবে আমিনুর মাষ্টার চরের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতি বছর তৈরি করে দেন ছোট ছোট প্রায় ১৫টি বাঁশের সাঁকো। এছাড়া বালুতে ছোট যানবাহন সাইকেল, মটরসাইকেল, রিক্সা, ভ্যান, অটোবাইক সহজে চলাচলের জন্য বিভিন্ন রাস্তায় মাইলের পর মাইল তিনি বিছিয়ে দেন কাশিয়া বা খড়কুটা।

বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের ছড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরিতে সুবিধা হয়েছে এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় অনেকেই।
আমিনুর মাষ্টারের কাজে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে থাকেন তার অন্যান্য ভাইয়েরা।

এ বিষয়ে তার ছোট ভাই স্কুল শিক্ষক এরশাদুল হক জানান, “কোদালকাটি ইউনিয়নের ভূখন্ড প্রায় বিলিনের পথে। চারপাশে নদী। বড় ভাইয়ের কাজে আমরা অন্যান্য ভাইয়েরা অর্থের যোগান দিই। সরকার সামান্য অর্থ ব্যয় করলেই আমাদের চরাঞ্চল হবে একটি বিশেষ কৃষি অঞ্চল।

এ বিষয়ে আমিনুর রহমান মাষ্টার সাংবাদিককে জানান, “মানুষ মানুষের জন্য, দুনিয়াটা স্বল্প সময়ের জন্য। মানুষের কষ্ট দুর হলে আমি শান্তি পাই। মানুষের ভালবাসা পাই এটাই আমার শান্তনা। এমন স্বেচ্ছাশ্রমী আমিনুর মাষ্টারকে চরবাসীর আর্শ্বিাদ মনে করেন অনেকেই। স্থানীয় লোকজন তার কাজ দেখে অভিভুত। সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করে কোদালকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি সোহেল সরকার বলেন, “আমাদের চর বাসীর যে দুর্ভোগ এজন্য সরকারী ভাবে টেকসই একটা সিদ্ধান্তের জন্য মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এমপি এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে একটি সুখবর আশা করছি।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..

Adcash

Adcash