বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ১১:২০ অপরাহ্ন

বাস্তহারা পরিবারকে ঘর দিলেন গোবিন্দগঞ্জের ইউএনও রামকৃষ্ণ বর্মণ

mm
আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় রবিবার ৩ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২৭বার পঠিত
বাস্তহারা পরিবারকে ঘর দিলেন গোবিন্দগঞ্জের ইউএনও রামকৃষ্ণ বর্মণ বাস্তহারা পরিবারকে ঘর দিলেন গোবিন্দগঞ্জের ইউএনও রামকৃষ্ণ বর্মণ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি গ্রামের আব্দুল গনি মিয়ার ছেলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুল বাছেদ (৩৫) একই গ্রামের মৃত গেন্দা আকন্দের ছেলে বাস্তহারা ফুল মিয়া আকন্দ (৪৯) এর নামে দানকৃত জমিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধিনে বাড়ী ঘর করে দিলেন সু-যোগ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মণ।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম মুজিবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারী এ বাড়ী পেয়ে খুশিতে যেমন আত্মহারা বাস্তহারা ওই পরিবারটি, তেমনি বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবর্ষিকী উদযাপনে অসহায় বাস্তহারা একটি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার মাথাগোঁজার ঠাঁই হিসেবে সরকারী বাড়ী পেতে দুই শতাংশ জমি ওই বাস্তহারা ব্যক্তির নামে দান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুল বাছেদ।

বাস্তহারা ফুল মিয়া জানান, আমি একজন অসহায় সম্বলহীন মানুষ, বুড়াবুড়ি বাজারে চায়ের দোকান করে পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করি এবং জায়গা জমি ও বাড়ী ঘর না থাকায় ওই দোকানেই পরিবার নিয়ে রাত্রি যাপন করি।

হঠাৎ একদিন দেখা হয়, বুড়াবুড়ি বাজারে সাংবাদিক আলমগীর হোসেনের সাথে তিনি আমার কাছ থেকে সব শুনেন এবং বলেন এলাকায় সরকারী খাস জমি থাকলে আপনি আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা ৪ বারের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিকানা বিহীন মানুষকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে জমি ও বাড়ী ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন। আপনার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহাদয়কে অবহিত করা হবে।

বাস্তহারা অসহায় পরিবারের জমিদাতা আব্দুল বাছেদ জানান, আমাদের এলকায় খাঁস জমি না থাকায় সাংবাদিক আলমগীর হোসেন শালমারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর মাধ্যমে আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি বঙ্গবন্ধুর একজন ক্ষুদ্র কর্মি হিসেবে অসহায় পরিবারটির স্থায়ী বাসস্থানের জন্য নিজের জমি থেকে দুই শতাংশ জমি দান করি এবং তার দলিল গত ৩ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মণ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজির হোসেনের মাধ্যমে বাস্তহারা ফুল মিয়ার হাতে তুলে দিতে পেরে নিজেকে ধণ্য মনে করছি।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মণ বলেন, দেশে অনেক অর্থশালী ও বৃত্তশালী ব্যক্তি রয়েছেন, কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের একজন সাধারণ মানুষ একটি অসহায় পরিবারের বাসস্থানের জন্য দুই শতাংশ জমি দান করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এ জাতি তা’ যুগ যুগ ধরে মনে রাখবে। তিনি আশা করেন এ ক্ষুদ্র মানুষটির মতো সমাজের অনেকেই এ রকম অসহায় বাস্তহারা মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..