বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন

চকরিয়ায় লবণমাঠ চিংড়ি জমি দখলে নিতে হামলা ও গুলিবর্ষণ, আতঙ্কে ১১৪টি পরিবার

mm
সাইফুল ইসলাম খোকন,কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় রবিবার ৩ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২০৮বার পঠিত
চকরিয়ায় লবণমাঠ চিংড়ি জমি দখলে নিতে হামলা ও গুলিবর্ষণ, আতঙ্কে ১১৪টি পরিবার

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া মৌজার ছড়াঘোনা ও মাষ্টারঘোনা এলাকায় ১১৪ পরিবারের মালিকানাধীণ ১৮২একর লবণমাঠ ও চিংড়ি জমি দখলে নিতে হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। ওইসময় ব্যাপক তা-ব চালিয়ে খামারঘর ভাংচুর এবং ঘেরের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে।

এতে প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়েছে ভুক্তভোগী মালিকপক্ষের। হামলা ও লুটপাটের এ ঘটনায় শনিবার চকরিয়া থানায় ৯জনের নাম উল্লেখ্য ছাড়াও আরো ১৫-২০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি এজাহার দিয়েছেন জমি মালিকপক্ষের অংশিদার ১১৪ পরিবারের প্রতিনিধি জাকেরা বেগম (৪৫)।

এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন বাঁশখালী পুইছড়ি এলাকার সুলতান গণি প্রকাশ লেদু মিয়া, মোহাম্মদ লেদু, চকরিয়া পৌরসভার দক্ষিন কাহারিয়াঘোনার জমির উদ্দিন, চিরিঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা জালাল উদ্দিন, ছরওয়ার আলম, মো.ছুট্টু, জাফর আলম প্রকাশ সিআইপি জাফর, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের মিজানুর রহমান ও মেধাকচ্ছপিয়ার খলিলুর রহমান।

জমি মালিকপক্ষের লোকজন জানান, বাদির এজাহারটি আমলে নিয়ে চকরিয়া থানার ওসি তদন্তের জন্য থানার এসআই মো.আবু সায়েমকে নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেছেন এসআই আবু সায়েম। ওইসময় তিনি উল্লেখিত লবণমাঠ ও চিংড়িজমি স্থানীয় ১১৪টি পরিবারের মালিকানাধীণ খতিয়ানভুক্ত সম্পদ তা স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জেনেছেন।

জমি মালিক পক্ষের অংশিদাররা জানান, খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া মৌজার বিএস ১৫৬খতিয়ানের ৫৮একর ৪৯শতক ও বিএস ১৭৬দাগের ১২৫একর ১৯শতকসহ দুই খতিয়ানে মোট ১৮২একর লবন ও চিংড়ি জমি রয়েছে স্থানীয় ১১৪ পরিবারের। এসব জমি তাঁরা ক্রয়সুত্রে ও অনেকে পৈত্রিক ভাবে মালিকানাধীন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এসব পরিবার জমি গুলোর বিপরীতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবছর যথারীতি খাজনাও (রাজস্ব) পরিশোধ করে বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন। ইতোমধ্যে অনেকের নামে আলাদা জমাভাগ খতিয়ানও সৃজন হয়েছে উপজেলা ভুমি কর্মকর্তার দপ্তর থেকে। বাদি জাকেরা বেগমসহ মালিকপক্ষের লোকজন অভিযোগ তুলেছেন, তাঁরা উল্লেখিত লবণমাঠ ও চিংড়িজমি শান্তিপুর্ণভাবে ভোগদখলে থাকলেও সম্প্রতি সময়ে ভুমিদস্যু চক্রের সদস্যরা এসব জমি অবৈধ ভাবে দখলে নিতে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে।

সর্বশেষ গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে ভাড়াটে একটি অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদল ১৮২একর লবণমাঠ ও চিংড়ি জমি দখলে নিতে হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। ওইসময় ব্যাপক তা-ব চালিয়ে খামারঘর ভাংচুর এবং ঘেরের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়েছে ভুক্তভোগী মালিকপক্ষের।

হামলার ঘটনায় এজাহার প্রাপ্তি নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার এসআই মো.আবু সায়েম বলেন, ১১৪ পরিবারের পক্ষে লবণমাঠ ও চিংড়িজমি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে জাকেরা বেগম নামের এক নারী থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। এটি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। বিস্তারিত তদন্তের পর বলা যাবে।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..

Adcash

Adcash