শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ১০:১১ পূর্বাহ্ন

সাঘাটায় নাব্যতা সংকটে নৌ চলাচল বন্ধ : হাজারো মানুষের দূর্ভোগ

mm
আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় সোমবার ৪ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩৩বার পঠিত


যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পাওয়ায় নব্যতা সংকটে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের নলছিয়া নৌ-ঘাটের প্রবেশ মুখে ৪০ মিটার এলাকায় বালুচর জেগে উঠায় নৌ-ঘাটে নৌকা ভিড়তে পারছে না। ফলে হলদিয়া ইউনিয়নের দিঘলকান্দি, পাতিলবাড়ী, গাড়ামারা, সিপি গাড়ামারা, কানাইপাড়া, চর নলছিয়া, চর গোবিন্দপুরসহ পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ, গুটাল এলাকার হাজার হাজার মানুষের চলাচল এবং ঐসব এলাকায় উৎপাদিত পন্য সামগ্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের দূর্ভোগ লাঘবে নৌ-ক্যানেলের মুখে ৪০ মিটার এলাকা জুড়ে জেগে ওঠা চরের বালু অপসারণ করে নৌ চলাচলের পথ সচল করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান চরাঞ্চলবাসী।

হলদিয়া ইউনিয়নের উল্লেখিত মৌজাগুলো চরাঞ্চল হওয়ায় যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন হলো নৌকা। কিন্তু নৌ-ঘাটের প্রবেশ মুখে বালুচর জেগে নৌ-ক্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে চরাঞ্চলের এসব মানুষ তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন ফসল বাজারে বিক্রয়ের জন্য আনা নেওয়া করতে পারছে না। প্রায় ৪ কিলোমিটার বালুচর পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়ে এসব মানুষকে অতিকষ্টে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তাদের উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর পরিবহন তো দূরের কথা, বালুচরে একাকী পায়ে হেঁটে যাতায়াতও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এছাড়া মুমুর্ষ রোগীর জরুরী চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিলে ওই দীর্ঘ ৪ কিলোমিটার বালুচর দিয়ে হেঁটে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা শহরের কোন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। নলছিয়া নৌ-ঘাটের দক্ষিণাংশে ৪০ মিটার জেগে ওঠা চর খনন করে বালি অপসারণ করে নৌ-চলাচল পথ সচল করে দূর্ভোগ লাঘব করার দাবি চরাঞ্চলবাসীর।

এ ব্যাপারে সিপি গাড়ামারা মৌজার আজিমুদ্দিন জানান,‘ বালুর মধ্যদিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ী থেকে জুমারবাড়ী হাটে আসতে খুবই কষ্ট হয়। আমাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে আনি কিভাবে? তাই ক্ষেতের ফসল ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে’।

চর নলছিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, ‘নৌকা চলাচল না করার কারণে আমাদের জমির ফসল- বেগুন, মরিচ, লাউ, কুমড়া, মুলা বাজারে বিক্রয়ের জন্য আনা কষ্টকর হওয়ায় এসব ফসল জমিতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি’।

নলছিয়া নৌ-ঘাটের ইজারাদার জয়নাল আবেদীন জানান, ‘সরকারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে ঘাট লীজ নিয়েছি। কিন্তুচর জেগে উঠে নৌ-ক্যানেল বন্ধ হওয়ায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি’।

এ ব্যাপারে হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী প্রধান জানান, ‘সামান্য ৪০ মিটার ক্যানেলের মুখের বালি খনন করে অপসারণ করা হলে আমার হলদিয়া ইউনিয়নের ৭ টি মৌজার মানুষ নৌকাযোগে অতি সহজে অল্প সময়ে যাতায়াত করাসহ তাদের উৎপাদিত ফসল ও পন্য সামগ্রী পরিবহন করা সহজতর হবে।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..