শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন

সেন্টমার্টিনে নির্দেশনা না মানায় বিলুপ্ত হচ্ছে দ্বীপের রাজকাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, প্রবালসহ অসংখ্য জলজ প্রাণী

mm
মো: সাইফুল ইসলাম খোকন,কক্সবাজার :
  • আপডেট সময় সোমবার ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৬৪বার পঠিত


দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ কক্সবাজারের টেকনাফের দ্বীপ সেন্টমার্টিন দ্বীপে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই গড়ে উঠছে একের পর এক বাণিজ্যিক স্থাপনা রিসোর্ট, হোটেল-মোটেল। পর্যটকদের জন্য সরকারের বেঁধে দেওয়া ১৪টি বিধিনিষেধ মানছেন না কেউ। দ্বীপটিতে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটকের অবাধ যাতায়াত, পরিবেশ দূষণ ও পর্যটকদের অসচেতনতা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে দ্বীপের প্রতিবেশ সহ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব কারণে দ্বীপটির প্রবাল, শৈবাল, সামুদ্রিক কাছিম, লাল কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুকসহ নানা জলজ প্রাণী এবং জীব বৈচিত্র্য বিলুপ্তির পথে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকত জুড়ে হাজারো মানুষের বিচরণ। সৈকতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভাড়ার মোটরসাইকেল ও সাইকেল। যত্রতত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল ও নারিকেলের খোসা। থেমে নেই ভারী জেনারেটর বসিয়ে পাম্প পরিচালনা, পাথর তোলা ও সৈকতের বালি অপসারণের মতো ক্ষতিকর কার্যক্রম।
পরিবেশ অধিদফতরের নির্দেশনা না মানায় বিলুপ্ত হচ্ছে দ্বীপের রাজকাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, প্রবালসহ অসংখ্য জলজ প্রাণী। আবার স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট না থাকায় সেন্টমার্টিনে গড়ে ওঠা ১৩০টি হোটেল, ৪০টি কটেজ আর অর্ধশতাধিক রেস্তোরাঁর ময়লা-আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে সমুদ্রের পানি। পর্যটকদের চাহিদা পূরণে দ্বীপের ভূগর্ভস্থ সুপেয় মিঠাপানির স্তরও নিচে নেমে গেছে। কারণে পরিবেশ অধিদফতর কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

প্রতিদিন দ্বীপে আট থেকে ১০ হাজার মানুষের সমাগম হয়। দ্বীপে পর্যটকের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে নৌ মন্ত্রণালয় ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় উদ্যোগ নিচ্ছে না। অথচ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে সরকার পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করেছিল।

পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিদিন পর্যটকদের সংখ্যা সীমিত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ জনের মধ্যে রাখা যায়, তাহলে কিছুটা ভারসাম্য রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু সেখানে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ হাজার পর্যটক ভিড় করছেন।
জানা গেছে, প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটারজুড়ে এই দ্বীপটির স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। এ ছাড়া পর্যটক মিলে প্রতিদিন দ্বিগুণ সংখ্যক মানুষের চাপ নিয়ে হিমশিম সেন্টমার্টিন। সৈকতে মানুষের কোলাহল ও পানিতে অতিরিক্ত দূষণের কারণে দ্বীপের বহু উদ্ভিদ-প্রাণী ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়েছে সামুদ্রিক কাছিম।
পরিবেশ অধিদফতর সূত্র জানায়, এমন অবস্থায় সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ১৪টি বিষয় নিষিদ্ধ ঘোষণা দিয়ে দেশের প্রথম সারির কয়েকটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে পরিবেশ অধিদফতর। সেগুলো হলো- দ্বীপের সৈকত, সমুদ্র বা নাফ নদীতে সব ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..