মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন

উলিপুরে করোনার প্রভাবে ভেঙে যাচ্ছে ফুল চাষিদের স্বপ্ন

mm
রাকিবুল হাসান,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় বুধবার ৩ মার্চ, ২০২১
  • ৭১বার পঠিত
করোনার প্রভাবে ভেঙে যাচ্ছে ফুল চাষিদের স্বপ্ন

কুড়িগ্রামের উলিপুরে করোনাভাইরাসের প্রভাবে স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে ফুল চাষিদের। ক্রেতা সংকটে বিক্রি করতে পারছেন না বাগানে উৎপাদিত ফুল। বাধ্য হয়ে ফুল তুলে ফেলে দিতে হচ্ছে। উপজেলার পৌরসভাস্থ নারিকেল বাড়ী খামার গ্রামের আব্দুল মজিদ বিশ বছর থেকে ফুল চাষ আর বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।

জীবনের শুরুতে নানা সংগ্রাম করে বাঁচতে শেখে আব্দুল মজিদ। ১৯৯৮ সালে উলিপুর পৌরসভা হওয়ায় আর নির্বাচনে অংশ নেননি তিনি। ১৯৯৬ সাল থেকেই স্বাধীন নার্সারির স্বত্বাধিকারি আব্দুল মজিদ।

নার্সারির শুরুতেই নানা জাতের কাঠ গাছ চাষ আর বিক্রি করতেন। জীবনের অর্ধেক সময় থেকে মানুষকে নানাভাবে সেবা দিতেন আব্দুল মজিদ। তিন সন্তান আর স্ত্রী নিয়ে বেশ সুখেই কাটে দিনকাল।

মাঝে মাঝে নিজেই ভ্যান চালিয়ে শহরের অলিতে গলিতে ফুল বিক্রি করতেন। ধীরে ধীরে বয়স বেড়ে যাওয়ায় এখন একমাত্র ছেলে আলমগীরকে দিয়ে ভ্যান চালিয়ে গাছ বিক্রি করান। বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋন নিয়ে প্রায় এক একর জমিতে ফুল চাষ করেন। প্রতি বছর বিভিন্ন জাতীয় দিবসে ও স্কুল কলেজের গেটে গেটে ফুল বিক্রি করে পাঁচ জনের সংসার সুখেই চলে।

গত ২০২০ সালে মার্চে বিশ্বে করোনা ভাইরাস দেখা দিলে বন্ধ হয়ে যায় স্কুল কলেজ। তখন থেকেই ঋনের বোঝা বাড়তে থাকে। প্রতি বছর বৃক্ষ মেলায় অংশগ্রহন করে বেশ সম্মান কুরানো মানুষটি এখন ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে স্বল্প পরিসরে ফুলচাষ করছেন।

পাঁচ সদস্যের পরিবারের সবাই মিলে ঋন থেকে মুক্তি পাবার জন্য একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন ফুলচাষের জমিতে।কিন্তুু করোনার প্রভাবে থমকে গেছে তাদের জীবন।

এদিকে একই অভিযোগ করেছেন উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের কাশিয়াগাড়ী গ্রামের ফুলচাষী নুর জামাল। সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় আব্দুল মজিদের সাথে-তিনি বলেন, করোনার কারনে এনজিও থেকে ঋন নেয়া টাকা পরিশোধ করতে পারছি না। ফুলচাষী নুর হোসেন বলেন, ফুলকে কেন্দ্র করেই আমাদের সব কিছু।

অথচ ফুল বিক্রি করতে পারছি না। ফুল গাছে শুকিয়ে যাচ্ছে। গাছ বাঁচিয়ে রাখার জন্য ফুল ছিড়ে ফেলে দিচ্ছি।জানি না কিভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবো। কোন ধরনের সরকারি সুবিধা পাইনি। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, করোনাকালে ফুল চাষীদের জন্য সরকারি কোন বরাদ্দ নাই।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..