মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

সমাপ্ত হীন প্রেম,পর্ব-১

mm
মোঃ জিয়াউর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার ৩০ মার্চ, ২০২১
  • ৯৪বার পঠিত
সমাপ্ত হীন প্রেম,পর্ব-১

( যাদের নিয়ে এ লেখাটি তাদের ছদ্মনাম ব্যবহার করে গল্পটি লেখা হলো )


মিঃ সাগর একটি এনজিওর ম্যানেজার পদে চাকুরী করেন। একই বিল্ডিং এ ঐ এনজিওর দুইটি শাখা অফিস। শাখা-১ এর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিঃ সাগর। প্রতিদিনের ন্যায় মিঃ সাগর সকালে অফিসে বসার পর পিওন একটি ফাইল তার সামনে দেন। ফাইলটিতে একটি অফিস আদেশ দেখতে পান মিঃ সাগর। সেই অফিস আদেশে লেখা আছে প্রত্যেকটি অফিসে একজন করে মহিলা এমআইএস অফিসার নিয়োগ দিতে হবে স্থানীয় ভাবে।

সেই অফিস আদেশ মোতাবেক ২ শাখার ম্যানেজার একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অফিসের গেটে টানিয়ে দেন। অনেক আবেদন আসতে থাকে। সাক্ষাতকার নেওয়া শুরু হয়। অনেকের মধ্যে ২ শাখার জন্য ২ জন কে সিলেক্ট করা হয়। শাখা-১ এর জন্য যাকে নিয়োগ দেওয়া হয় তার নাম নদী এবং শাখা-২ এর জন্য যাকে নিয়োগ দেওয়া হয় তার নাম রুপা। নদী বিবাহিতা আর রুপা অবিবাহিতা। নদীর বাসায় রুপা ভাড়া থাকতো।


নদীর কোন অভাব নেই। তার স্বামী ব্যবসা করেন, অনেক ধন সম্পদের মালিক। নদী যখন ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী তখন তাদের সম্পর্ক করে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে নদী এমএ পাশ করেন এবং পাশাপাশি “ল”তে পড়ালেখা করেন। নদীর কোন সন্তান নেই অপর দিকে স্বামী ব্যবসার কাজে বেশিরভাগ সময় বাহিরে থাকায় নদীর একা একা সময় কাটতো না- বিধায় চাকুরীটা তিনি নিয়েছেন সময় কাটানোর জন্য।

১ম দিন নদী অফিসে আসেন- অফিসের সকলেই তাকে স্বাগত জানান। নদীর বসার জায়গা ম্যানেজার সাহেবের টেবিলের পাশেই। ম্যানেজার মিঃ সাগর অফিসে ঢুকেই দেখেন নদী তার চেয়ারে বসে আছেন। নদী মিঃ সাগরকে সালাম দেন। সাগর সালাম গ্রহন করে একটি মুচকি হাসি দিয়ে বলেন কেমন আছেন। নতুন কর্মস্থল কেমন লাগছে আপনার। নদী ও হাসি মুখে বললেন ভালো লাগছে স্যার।


মিঃ সাগর বিবাহিত। তার একটি ছেলে সন্তান আছে, বয়স ৩বছর। সাগর সাহেবের পরিবার থাকে তার নিজ এলাকায়। তিনি কর্মস্থলে থাকেন অফিসের অফিসার্স কোয়াটারে।

নদী নিয়মিত অফিস করছেন। তিনি সব সময় ফিট ফাট থাকেন। শরীরে ব্যবহার করেন দামী বডি স্প্রে। এক কথায় বলা চলে অপূর্ব। তার চাহনী মাঝে মাঝে সাগর সাহেবকে অবাগ করে তুলতো- কিন্তু কিছু বলতে পারতেন না।


প্রতিদিনের মতো সকলেই ফিল্ডে চলে যায়। সাগর সাহেব সে দিন অফিসে ঢুকেছেন একটু দেরিতে। অফিসে ঢুকতে পিওন বলছে স্যার আমি একটু বাহিরে যাবো- আমার একটু ব্যক্তিগত কাজ আছে। সাগর সাহেব বললেন ঠিক আছে যাও। অফিসে ঢুকেই দেখেন নদী তার টেবিলে মনযোগ সহকারে কাজ করছেন। সাগর সাহেব তার চেয়ার বসার জন্য ভিতরে ঢুকতেই নদীর পায়ের সাথে আটকে যায়। সাগর সাহেব দুঃখিত বলে চেয়ার বসেন। চেয়ারে বসে ফাইল স্বাক্ষর করছেন। নদীকে বলছেন আপনার কাজগুলো কতদূর হলো- শেষ হলে আমার স্বাক্ষর নিয়ে নিবেন। নদীর কোন সারা শব্দ নেই চুপচাপ। সাগর সাহেব নদীর দিকে তাকিয়ে দেখেন নদী নীরব তাকিয়ে আছেন তার দিকে। সাগর সাহেব নদীর নিকট জানতে চাইলেন কি ব্যাপার আপনার কোন সমস্যা, শরীর খারাপ নাকি? নদী মিষ্টি কন্ঠে বললেন না কোন সমস্যা নেই। সাগর সাহেব অফিসের কাজে বাহিরে চলে যান।

রাতে খাওয়া করে সাগর সাহেব বিছানায় যান ঘুমাতে। হঠাৎ একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। সাগর সাহেব ফোন রিসিভ করে সালাম দিয়ে বলেন হ্যালো কে বলছে- অপর দিক থেকে কোন জবাব নেই। হ্যালো হ্যালো করতে থাকেন সাগর সাহেব। কিছুক্ষণ পর লাইনটি কেটে দেন অপর দিক থেকে।


কয়েক দিন পর আবারও ঐ একই নম্বর থেকে রাতের বেলায় সাগর সাহেবের ফোনে ফোন আসে। সাগর আগের মতই ফোন রিসিভ করে সালাম দেন এবং জানতে চান – কে আপনি, কাকে চান। অনেক ক্ষন পর উত্তর আসে- আমি যাকে ফোন দিয়েছি তাকেই চাই। ততক্ষনে সাগর সাহেবের আর বুঝতে বাকী রইলো না যে কে তাকে ফোন দিয়েছে। সাগর সাহেব বলেন নদী আপনি এত রাতে আমাকে কেন ফোন দিয়েছেন। কোন জরুরী প্রয়োজন কি? নদী বলেন জরুরী প্রয়োজন কি না জানি না তবে আপনাকে আমার খুব প্রয়োজন। সাগর বলেন কি প্রয়োজন বলেন। নদী উত্তরে বলেন না আজ বলবো না- নদী ফোন কেটে দেন।

চলমান……………

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..