মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়িসহ ফসলের ক্ষতি : মৃত্যু-১২

mm
আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার ৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৭বার পঠিত


গাইবান্ধায় গত রোববার দুপুরে দেড় ঘণ্টা বৃষ্টিহীন কালবৈশাখীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। এই ঝড়ে সদর, পলাশবাড়ী, সুন্দরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায় অন্তত চার সহস্রাধিক ঘরবাড়ি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অসংখ্য গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকা। ঝড়ে নষ্ট হয়েছে উঠতি ফসল। এসময় গাছ ভেঙে এবং দেওয়াল চাপা পড়ে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গত রবিবার প্রায় এক ঘন্টার বৃষ্টিবিহীন কালবৈশাখী ঝড়ে সদর উপজেলায় পাঁচ জন, পলাশবাড়ীতে তিন জন, ফুলছড়িতে দুই জন এবং সুন্দরগঞ্জে ও গোবিন্দগঞ্জে একজন করে নিহত হন। ঝড়ে জেলার সাত উপজেলার মধ্যে ছয়টির ৪৩টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার ৮৬০ জন এবং চার হাজার ৩২৬টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাড়ে আটশ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

গত রবিবারের ঝড়ে গাইবান্ধায় প্রাণ হারানো ১২ জনের দাফন গতকাল সোমবার সম্পন্ন হয়েছে। নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার হরিণসিংহা গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে মুনির (৫), আরিফ খান বাসুদেবপুর গ্রামের আরজিনা বেগম (২৮), ঢনঢনিপাড়া গ্রামের সাহারা বেগম (৪১), মোল্লার চরের বাতাসী বেগম (৩০) ও রিফাইতপুর সরকারেরতারি গ্রামের জোছনা রানী (৫৫); গোবিন্দগঞ্জের রামপুরা গ্রামের শারমিন বেগম (২০); পলাশবাড়ী উপজেলার ডাকেরপাড়া গ্রামের জাহানারা বেগম (৫০), মোস্তফাপুর গ্রামের আবদুল গোফ্ফার (৪২) ও কুমেদপুর গ্রামের স্ত্রী মমতা বেগম (৬৪); সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত হলদিয়া গ্রামের ময়না বেগম (৪৭); ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারি গ্রামের শিমুলি বেগম (২৬) ও ডাকাতিয়ার চর গ্রামের হাফিজ উদ্দিন (৬৫)।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, সদর, ফুলছড়ি, পলাশবাড়ী, সুন্দরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলার ৮৬৯ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভুট্টা ৮৩০ হেক্টর, বোরো ধান ২০ হেক্টর, কলা ১৬ হেক্টর ও সূর্যমুখী ৩ হেক্টর রয়েছে বলে তিনি জানান।

জেলা ত্রাণ অফিসের প্রধান সহকারী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ঝড়ে ৪ হাজার ৩২৬টি ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নের ১৫ হাজার ৮৬০ জন মানুষ। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি।

জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন জানান, নিহত ১২ জনের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ হাজার করে টাকা আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়ছে।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..