রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

একটি সেতু বদলে দিতে পারে দুই জেলার মানুষের জীবন জীবিকা

mm
মনোয়ার বাবু (ঘোড়াঘাট) দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় সোমবার ১২ এপ্রিল, ২০২১
  • ২৩৮বার পঠিত

মাত্র একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে দুই পাড়ের দুই উপজেলার অন্তত ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের। উপজেলা দুটি, দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানা অপরটি পাশ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানা।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর দুই থানার সীমান্ত এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে করোতোয়া নদী।ঘোড়াঘাট সদর অর্থাৎ থানা থেকে উত্তর পশ্চিম দিকে মাত্র এক/দেড় কিলোমিটার দূরে পৌর সভার ৫ নং ওয়ার্ডের কাদিমনগর হাজির ঘাট নামক স্থানে করোতোয়া নদী দ্বারা দুই থানার সীমানা ভাগ হয়ে গেছে, যার অপর প্রান্ত পলাশবাড়ী থানার ১নং কিশোরগাড়ি ইউপির হাসান খোর নামে পরিচিত।

দীর্ঘ দিন ধরে একটি ব্রীজের দাবি জানিয়েও কোন সুফল পাননি দুই পারের ১৫ টি গ্রামের জীবনের ঝুকি নিয়ে চলা অন্তত অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।নদীর অপর প্রান্ত অর্থাৎ পলাশবাড়ী থানার ১০ টি গ্রামের মানুষকে নিত্যদিন কৃষি পণ্য বিপণন,চিকিৎসা এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল- কলেজে আসতে হয় এবং এপারের ৫টি গ্রামের মানুষকে নানা কাজে যাতায়াত করতে হয় নদীর অপর দিকের গ্রামগুলোতে।

শুকনো মৌসুমে প্রয়োজনের তাগিদে স্থানীয়রাই নদীর প্রান্তে কিছু অংশে বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে সেতু তৈরি করে কোনো রকমে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে থাকে এবং বর্ষা মৌসুমে খেয়া ঘাট দিয়ে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও আজও সুনজর পড়েনি কোন কর্তৃপক্ষের।ফলে দুই উপজেলার মানুষের সেতুবন্ধন অধরাই রয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয়, নদী পারা পার হওয়া কিছু মানুষের সাথে।তারা বলেন,ভরা বর্ষায় নৌকা এবং শুকনো মৌসুমে কিছু জায়গায় পানি এবং কিছু জায়গায় বালির উপর দিয়ে পাড় হওয়া খুবই কষ্টকর।সেতুটি কবে বানাবে সরকার। আমাদের তো অসুখ হলে তাড়াতাড়ি হাসপাতালেও যেতে পারি না। শুনছি দেশে কত উন্নতি হচ্ছে। মরার আগে এখানে সেতু দেখে যাইতে পারমু কি!

আক্ষেপের সুরে ৩/৪ জন কৃষক বলেন, জন্মের পর থেইকা দেখছি শুনছি হবে হবে। কিন্তু আজও তা অফিস পর্যন্ত গেছে কিনা জানা নাই। যতই ছবি তুলেন ব্রিজ আর অইবো না। হামার ঘরে মত গরিব মানুষের ডাক সরকারের কানে যায় না।

এদিকে দুই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সেতু নির্মাণের। সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনেতিক উন্নয়ন ও অর্ধলক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে জানান স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..