রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

খাগড়াছড়িতে ২প্রতিবেশীর প্রতিহিংসায় ৩পরিবারের ১৩’সদস্যের চলাচল রাস্তা বন্ধ

mm
পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় শুক্রবার ২৩ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৫৯বার পঠিত

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের গজ্ঞপাড়ায় ২প্রতিবেশীর প্রতিহিংসায় ব্যবসায়ী মোঃ আকতার এর ৩ভাইয়ের বাড়ির চলাচল রাস্তা ২টি বন্ধ করে দেয়ায় ঘর বন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে স্ত্রী ছেলে-মেয়েসহ ১৩সদস্য।সম্প্রতি এ বিষয়টি ব্যবসায়ী আকতার অবগত করলে, সরেজমিনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

ব্যবসায়ী আকতার ও তাদের ৩ভাইয়ের বাড়িতে আসা-যাওয়ার ২টি রাস্তা। একটি তাদের ব্যক্তিগত, অন্যটি তাদের সামাজিক রাস্তা। ২টি রাস্তাই ২পার্শ্বে ২প্রতিবেশী বন্ধ করে দিয়েছে।সামাজিকভাবে চলাচলের রাস্তাটি মোঃ ইউনুছ মিস্ত্রী গত কয়েমাস আগে থেকে বন্ধ করে রেখেছে। তখন থেকে আমরা আমাদের ব্যাক্তিগত রাস্তাটি দিয়েই চলাচল করছি।

এমতাবস্থায়, সম্প্রতি ব্যাক্তিগত রাস্তাটিও বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিবেশী মো. শওকত। পাশাপাশি মো. আক্তারের সীমানার ৩টি কাঁঠাল গাছ শওকত তার দখলে নিয়ে ঘেরাবেড়া দিয়ে রেখেছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আকতার বলেন, হিংসাত্মকমূলক আক্রোশ অথবা ক্ষমতার দাপট ও অর্থের জোড়েই হয়তো তারা আমাদের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে তাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব-সংঘাত নেই।

২টি রাস্তাই বন্ধ করে দেয়ায় বর্তমানে আমরা বাড়ির পেছনে জঙ্গল দিয়ে অন্যের ধানী জমির কাদা-পানির ওপর দিয়ে প্রায় অর্ধ কিলোঃ রাস্তা ঘুরে খাগড়াছড়ি বাজারে যেতে বাধ্য হচ্ছি।

সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের গিয়ে, একাধিক প্রতিবেশীর সাথে ও এলাকার মেম্বারসহ ইউপি চেয়ারম্যান বাবু জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরার সাথেও কথা হয়।

ইউপি সদস্য মো. সৈয়দ আলী বলেন, চলাচল রাস্তা বন্ধ করা মারাত্মক অপরাধ ও অমানবিক। প্রতিবেশীর এহেন কাজ মোটেই ঠিক হয়নি। আমরা এ বিষয়টি সুরাহার জন্য উভয়পক্ষকে সাথে নিয়ে বসে রাস্তা খুলে দেয়ার ব্যাবস্থা করবো।

ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়ে উভয় পক্ষকে ডেকে ইউনিয়ন কার্যালয়ে সমাধানের চেষ্টাও করেছি কিন্তু অভিযোগকারী উপস্থিত হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিগন উপস্থিত হয়নি। পরে অভিযোগকারীকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

প্রতিবেশী ইউনুছ মিস্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার ব্যক্তিগত রাস্তা যা আমার দলিলে উল্লেখ আছে।পরে দেখে যায়, দলিলে উল্লেখ রয়েছে এটি সমাজের ও সবার জন্য উন্মুক্ত রাস্তা।

দ্বিতীয় রাস্তা অর্থাৎ আক্তারের পরিবারের রেগুলার চলাচলের রাস্তা বন্ধকারী মোঃ শওকত বলেন, এটা আমার জায়গা, আমার কাগজের জায়গার উপর দিয়ে তাদেরকে রাস্তা দিবো কেন? আমার জায়গার উপর রাস্তা আমি বন্ধ করতেই পারি।

পরে সাংবাদিক ও মানবাধিজারের সদস্যসহ সমাজের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চাঁপের মুখে পড়ে শীঘ্রই রাস্তা খুলে দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন শওকত।

ভুক্তভোগী আকতার বলেন, শওকতের পাশ দিয়ে আমাদের মুল রাস্তা, এ রাস্তা দিয়েই আমার আগের আরো ৩পরিবার এখানে বসবাস করে গেছেন। তখন এই রাস্তাই ছিলো,আমি ও আমরা ৪র্থ ক্রয় সূত্রে মালিক। আমরা এ জমি ক্রয় করে বসবাস করছি এ রাস্তা দিয়েই চলাচল করে আসছি। কিন্তু কিছু দিন আগে হটাৎ করেই এ রাস্তা বন্ধ করে দেয় শওকত।

এ ব্যাপারে আমরা রাস্তা ২টি পূণরায় খুলে দেয়ার জন্য প্রশাসন ও উর্ধতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..