শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

মেজর সিনহা হত্যা মামলায় আসামীদের জামিন না মঞ্জুর ,জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ

mm
সাইফুুল ইসলাম খোকন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট, ২০২০
  • ৯৯বার পঠিত



কক্সবাজারে পুলিশের হাতে নিহত সাবেক মেজর (অব.) সিনহা মোঃ রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি প্রদীপ কুমার দাশ ও এসআই লিয়াকতসহ ৭ আসামীকে বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা জজ আদালত টেকনাফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আদালত নম্বর-৩) আদালতে আনা হয়।

বিকাল ৫টার দিকে তাদেরকে এজলাজে আনা হলে টানা এক ঘণ্টা আসামীদের নিয়ে শুনানী করা হয়। এসময় আদালত আসামীদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেয়।

আলোচিত এই হত্যা মামলার আসামীদের দেখতে কক্সবাজার আদালত চত্বরে উৎসুক মানুষের নজিরবিহীন সমাগম পরিলক্ষিত হয়।
মেজর সিনহা মোঃ রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামী প্রত্যাহার হওয়া উপ-পরিদর্শক লিয়াকত ও ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ আসামীদের আদালতে তোলার খবরে উৎসুক জনতা সমবেত হয়। এই বিপুল উৎসুক জনতার সমাগমের শৃঙ্খলা ঠেকাতে আদালত চত্বরে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য।

মামলার আসামীরা হলেন- পরিদর্শক লিয়াকত আলি, পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এএসআই লিটন মিয়া।

এর আগে, প্রদীপ কুমার দাশকে নিয়ে পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। আর বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পরিদর্শক লিয়াকতসহ বাকি সাতজনকে আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় পুরো এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা নেওয়া হয়।

এর আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সূত্র জানায়, প্রদীপ কুমার অসুস্থতাজনিত কারণে চট্টগ্রামের লালখান বাজারের পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিএমপি সদর দপ্তরে আসেন তিনি। এরপরই তাকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। দুপুর ২টায় তাকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ। তাকে বহনকারী মাইক্রোবাসের পাশে তিনটি গাড়িতে পোশাক পরিহিত ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য ছিল।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা রাশেদ খান। এই ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন ও নিরাপত্তা বিভাগ। একইভাবে তদন্তের স্বার্থে টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলিসহ ১৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় বুধবার দুপুরে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন মেজর সিনহার বড়বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। মামলাটির শুনানিতে সন্তুষ্ট হয়ে তা ‘ট্রিট ফর এফআইআর’ হিসেবে আমলে নিতে টেকনাফ থানাকে আদেশ দেন আদালতের বিচারক। আদালতের নির্দেশে টেকনাফ থানায় বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মামলাটি রুজু হয়। দণ্ডবিধি ৩০২, ২০১ ও ৩৪ জামিন অযোগ্য ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলা নম্বর সিআর: ৯৪/২০২০ইং/টেকনাফ।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..