বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন

মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

mm
আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ,(গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ -
  • আপডেট সময় শনিবার ৮ আগস্ট, ২০২০
  • ১১৩বার পঠিত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের জাইতরবালা গ্রামে রোমানা আক্তার হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে মায়ের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৮ আগষ্ট (শনিবার) দুপুরে পলাশবাড়ী পৌরশহরের হরিণমারী গ্রামের আব্দুর রশিদের বাড়ীতে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত রোমানার মা লাইজু বেগম।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের জাইতরবালা গ্রামের নজরুল মিয়ার ছেলে আঃ রহিম মিয়ার সহিত গত ৩/৪ বছর পূর্বে আমার কন্যা রোমানা আক্তারের মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয়।

বিবাহের পর হতে আমার কন্যা রোমানা ঘর-সংসার করে আসছিল। ঘর-সংসার করাকালে আমার কন্যার একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে।

কিন্তু আমার জামাই যৌতুকের লোভী আঃ রহিম দীর্ঘদিন হতে আমার কন্যাকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে আসত। কন্যার সুখের কথা ভেবে নগদ অর্থ, আসবাবপত্র স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩ লাখ প্রদান করি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ আগষ্ট ২০২০ তারিখ রাত্রি অনুমান সাড়ে ১২টার দিকে আমার কন্যার শ্বশুর নজরুল মিয়া তার নিজ ফোন নম্বর-০১৭৯৮-৯২২৮০৫ হতে আমার ০১৭৬১-৩৮৭৩৪৩ নম্বর ফোনে জানায় আপনার কন্যা গলায় ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুবরণ করিয়াছেন।

খবর পেয়ে আমিসহ আমার আত্মীয়-স্বজনরা দ্রুত আমার কন্যার শ্বশুর বাড়ী জাইতরবালায় পৌঁছি। সেখানে গিয়ে দেখতে পাই যে আমার জামাই আঃ রহিমের পশ্চিম দুয়ারী ঘরের খাটের উপর আমার কন্যার মরদেহ শোয়াইয়ে রাখা। ওই সময় আমার কন্যার মুখে উপর থাকা গামছা সরাইয়া দেখতে পাই যে, আমার মৃত কন্যার দুই চোয়ালের উপর মারডাং চিহৃসহ নিচের ঠোঁটটি কালা এবং বাম পায়ের উরু লাল ও ফুলিয়া রয়েছে।

আমার বিশ্বাস আমার জামাই, তার শ্বশুরসহ অপরিচিত ব্যক্তিদ্বয় আমার কন্যাকে মারডাং করে তার মুখে ওড়না গুজাইয়া মেরে ফেলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা লাইজু বেগম ছাড়াও নিহতের বাবা আঃ রশিদ, বোন রুমী আক্তার মরিয়ম ও তারমিন আক্তার সুমী উপস্থিত ছিলেন। লাইজু বেগম তার কন্যার হত্যাকান্ডের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে মাননীয় স্বরাষ্টমন্ত্রী, রংপুর বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি), পুলিশ সুপার গাইবান্ধাসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট জরুরী আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..