সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন

গোবিন্দগঞ্জে আদিবাসী দিবসে বাপ দাদার সম্পত্তি ফেরতের দাবি সাঁওতালদের

mm
আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় রবিবার ৯ আগস্ট, ২০২০
  • ৯২বার পঠিত


আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে সাঁওতালরা তাদের বাপ দাদার জমি ফেরত, নিহত তিন সাঁওতাল শ্যামল, মঙ্গল ও রমেশ হত্যা এবং তাদের বাড়ীঘরে আগুন লাগানোর সাথে যুক্ত আসামীদের বিচারের দাবীতে রবিবার (০৯ আগস্ট) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকার সাঁওতালরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন, এএলআরডি ও জনউদ্যোগ এই বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করে।

বিক্ষুব্ধ সাঁওতালরা বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ফেস্টুন, পতাকাসহ একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মাদারপুর-জয়পুর সাঁওতাল পল্লী থেকে হেঁটে ১৪ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে গোবিন্দগঞ্জ শহর প্রদক্ষিণ শেষে মহাসড়কের থানা মোড়ে এসে সমাবেশ করে। সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা কমিটির সভাপতি মিহির ঘোষ, পরিবেশ আন্দোলনের আহবায়ক ওয়াজিউর রহমান রাফেল, আদিবাসী বাঙালী সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, কমিউনিস্ট পার্টি উপজেলা শাখার সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারন সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান, সাঁওতাল হত্যার মামলার বাদী থমাস হেমব্রম, আদিবাসী নেত্রী তৃষ্ণা মুর্মু, ভূমি সংগ্রাম কমিটির নেতা স্বপন শেখ, গণেশ মুর্মু, রাফায়েল হাসদা, আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার প্রায় চার বছর হলেও তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় নাই। চুড়ান্ত অভিযোগ পত্রে ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত এজাহারভূক্ত আসামী গোবিন্দগঞ্জ আসনের সে সময়ের সাংসদ অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও প্রকাশ্যে সাঁওতালদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগকারী অতি উৎসাহী পুলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ আসামীদের নাম বাদ দেয়ায় তারা বিক্ষুদ্ধ হয়েছে।

তারা বলেন, সারা পৃথিবীর গণমাধ্যমে প্রকাশিত আগুন লাগানোর ফুটেজ, ছবি প্রকাশ পেলেও এখন পর্যন্ত কোন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদেরকে বিচারের আওতায় আনা হয়নি। এর মাধ্যমে সাঁওতালদের সাথে পরিহাস করা হয়েছে। বর্তমানে সিআইডি’র কাছে মামলাটি তদন্তাধীন আছে। সিআইডি’র কাছে মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে চার্জ প্রদানের দাবি করেন তারা। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..