শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন

১৫ আগস্টের ঘটনায় জিয়াকে জড়ানোর চক্রান্ত চলছে : রিজভী

mm
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৮৫বার পঠিত

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনায় তার দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে জড়াতে ‘সরকার নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করছে’।

তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তিটি জাতীয় নেতৃত্বের অভাবে দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে ‘স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন’, জাতীয় নেতৃত্ব সেদিন যে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি, একজন মেজর সেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন জাতির কাণ্ডারি হিসেবে, তিনি ভূমিকা পালন করেছিলেন। আজকে তার বিরুদ্ধে সমস্ত মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে মিডিয়ার সমস্ত আলো একজন ব্যক্তির দিকে টেনে নিয়ে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বিষোদগার করা হচ্ছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত ‘মরহুম ড. এমাজউদ্দীন আহমদের স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল’-এ রিজভী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু নিয়ে আপনারা যে মামলা করেছিলেন সেই মামলাতেও তো ‘শহীদ’ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম ছিল না। তিনি তো তখন ছিলেন সামরিক বাহিনীর দ্বিতীয় ব্যক্তি। প্রথম ব্যক্তি যিনি তার কোনো দায়-দায়িত্ব নেই? কারণ তিনি আওয়ামী লীগ করেন, আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী ছিলেন, তিনি বাদ! বহুদলীয় গণতন্ত্র জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন, এটাই ছিল তার অপরাধ। তিনি যদি বাকশালকে সাপোর্ট করতেন, তাহলে এ ধরনের কোনো কথাই আসতো না।

‘দেশের এই গর্বিত সন্তান সেক্টর কমান্ডারের রাজনৈতিক দর্শন এবং তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্র নিশ্চিতই হয়নি, বাংলাদেশ যে একটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র, এটা জনগণ উপলব্ধি করতে পেরেছিল জিয়াউর রহমানের সময়। এখানেই কষ্ট হচ্ছে আওয়ামী লীগের। তার এত জনপ্রিয়তা কেন? তার রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং বহুদলীয় যে চেতনা, এই চেতনা কেন এখানে প্রতিষ্ঠা করেছে, এটাই তাদের কষ্ট। তাকে হত্যা করল চিটাগাং সার্কিট হাউসে, সেই পতাকাটি বহন করলেন তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া। এই কারণেই সমস্ত প্রতিহিংসা জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ওপর।’

গণতন্ত্রের প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার চেয়ে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার কমিটমেন্টই প্রমাণিত দাবি করে রিজভী বলেন, এজন্যই বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যত রাগ-ঈর্ষা। সেজন্য যে মামলার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই, কোনো সাক্ষী নেই, সেই মামলায় সাজা দিয়ে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছিল। আর আজকে জিয়াউর রহমানকে নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে যুক্ত করতে চাচ্ছে ১৫ আগস্টের ঘটনার সাথে। খন্দকার মোশতাক বাকশালের প্রভাবশালী নেতা ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, তিনি রাষ্ট্রপতি হলেন। পাশাপাশি ক্যাবিনেট-পার্লামেন্ট সবই আওয়ামী লীগের, তাদের তো আপনি তেমন কিছু বললেন না ‘

বিএনপির এই সিনিয় যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ’৭২ থেকে ’৭৫ ক্যাবিনেটে আব্দুল মান্নান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, মুশতাকের ক্যাবিনেটে মন্ত্রী ছিলেন। তারপর বিভিন্ন আমলা ও সামরিক কর্মকর্তা পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। সে সময় তারা চাকরি করেছেন। তারপর আপনার আওয়ামী লীগের এমপি হয়েছে মন্ত্রী হয়েছে, তাদের তো কিছু বলেন না। ওই রক্তাক্ত লাশ নিয়ে শপথ পড়ালেন যিনি, সেই এইচ টি ইমাম এখন উপদেষ্টা, কই তাকে তো কিছু বলছেন না। আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, একটি মিছিল বের করতে পারেননি সেদিন।

তিনি বলেন, দেশে প্রথম সুশাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন জিয়াউর রহমান, তার সময়ে দেশের মানুষ ঘরের দরজা খুলে ঘুমাতে পারতো, আর আপনার শাসন কী? আপনার শাসন হচ্ছে ক্যাসিনো, আপনার শাসন হচ্ছে জেকেজি, রিজেন্ট, সাহেদ-সাবরিনা। গত ১০ বছরে ঢাকা শহরে পঞ্চাশটি ক্যাসিনো হয়ে গেল, হাসপাতালগুলোতে লাইসেন্স নেই এবং যাকে করোনা টেস্টের অনুমোদন দেয়া হলো তিনি ভুয়া সনদ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেন, তারা হলেন সাবরিনা-সাহেদ। এদেরকে কারা সৃষ্টি করেছে?

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..