বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন

গাইবান্ধায় নতুন করোনা শনাক্ত ১৫ জনসহ আক্রান্ত ৮৪৩

mm
আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২০
  • ১০৫বার পঠিত


গাইবান্ধায় বেড়েই চলছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিনই সংক্রমণ বাড়লেও সচেতনতার বালাই নেই। বরং স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে নগর-বন্দর আর হাটে-বাজারে মানুষ বেপরোয়া চলাফেরা করছে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে প্রশাসনের তৎপরতা শিথিল আর সাধারণ মানুষের উদাসীনতায় বাড়ছে সংক্রমণ।

জেলার সর্বত্র করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। কি গ্রাম, কি শহর সবদিকেই করোনার ছোবল। সর্বশেষ সোমবার রাতে পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার ৭ উপজেলায় ৮৪৩ জনের শরীরে ধরা পড়েছে করোনা। মারা গেছেন ১৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫৩৫ জন। বিভিন্ন আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন ২৯৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার। এ উপজেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৬৯ জন। মারা গেছেন ৪ জন।

সর্বশেষ সোমবার রাতে পাওয়া রিপোর্টে এ জেলায় নতুন করে আরও ২৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে সদরে ৫ জন, গোবিন্দগঞ্জে ৬ জন, পলাশবাড়ীতে ১ জন, সাঘাটায় ১ জন, সাদুল্লাপুরে ১ জন এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ১ জন রয়েছেন।

সংখ্যাধিক্য অনুযায়ি মঙ্গলবার সকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাতেই সবচেয়ে বেশি ২৬৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে (এরমধ্যে পৌর এলাকায় ১৪০ জন)। এর পরের অবস্থানে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় পাওয়া গেছে ২৪৪ জন (এরমধ্যে পৌর এলাকায় ১৮০ জন), পলাশবাড়ী উপজেলায় ৮৬ জন (এরমধ্যে পৌর এলাকায় ৫৪ জন), সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৬৩ জন (এরমধ্যে পৌর এলাকায় ২৯ জন), সাদুল্লাপুর উপজেলায় ৭৩ জন, সাঘাটা উপজেলায় ৬৪ জন ও ফুলছড়ি উপজেলায় ৪৪ জন।

তবে করোনার সংক্রমণের মধ্যেই আশার আলো এর সুস্থতার সংখ্যা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এ পর্যন্ত জেলায় ৫৩৫ জন মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন ওই রোগ থেকে। জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরও ৪০ জন সুস্থ হয়ে আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

জানা গেছে, এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ১৪ জন করোনা আক্রান্তরোগী মারা গেছেন। এরমধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ৪ জন, সদরে ৩ জন, সাদুল্লাপুরে ২ জন, পলাশবাড়ীতে ৪ জন এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে করোনা সংক্রমণ নিয়ে স্থানীয়রা অনেকটাই অসচেতন। চলাচলে অসতর্কতা এবং সামাজিক দূরত্ব ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি কেউ সঠিকভাবে মেনে চলছেন না। সাধারণ মানুষ হাঁটবাজার, দোকানপাট ও রাস্তাঘাটে অবাধে চলাচল করছেন। চলছে চায়ের দোকানে আড্ডা। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে কমেছে প্রশাসনের নজরদারিও। এতে করোনার ভয়াবহ সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা।

সিভিল সার্জন জানান, বর্তমানে জেলায় মোট ২৯৪ জন কোভিড-১৯ রোগী বিভিন্ন হাসপাতাল ও নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদরের রোগীই বেশি। এছাড়া জেলার গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সুন্দরগঞ্জ এবং গাইবান্ধা পৌর শহর ও আশেপাশের এলাকায় করোনা সংক্রামণ ক্রমাগত বাড়ছে।

সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, পজেটিভ কেসগুলোর অধিকাংশই এখন সুস্থ হওয়ার পথে। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারও মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। আইসোলেশনে নিতে হবে।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..