রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন

পিতার আকুতি

mm
মোঃ ফিরোজ কবির, ঘোড়াঘাট, দিনাজপুরঃ-
  • আপডেট সময় বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৩২বার পঠিত

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আজ বড় জানতে ইচ্ছে করে সেই তুমি আমাকে নিয়ে ভাবো কিনা ?একটা সময় ছিল যেখানে তোমার প্রতিদিনের প্রয়োজন গুলো আমাকে মেটাতে।

আজ তুমি কোথায? তোমাকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, তুমি কি সেই মানুষ? যাকে আমি তিল তিল করে সৃষ্টি করেছি জন্ম থেকে জন্মান্তরে জন্য । আজ বড় ব্যাথা অনুভব করি তোমার অনুপস্থিতিতে ।

ভালো লাগছে এই ভেবে যে, তুমি অনেক ভালো আছো প্রিয়জনের প্রিয় সান্নিধ্যে থেকে । কারো ভাঙ্গা ঘরের উপর হাজারো তলার কোন অট্টালিকা শান্তির ঘুম এনে দিতে পারে না । আজ অর্থ , বিত্ত , বৈভব সবই তোমার পায়ের কাছে । যাদের তুমি অবহেলায় আজ দূরে সরে রেখেছো কারো প্ররোচনায, সেই তোমাকে একদিন খুব সযত্নে পৃথিবীতে আনতে সচেষ্ট ছিল তারা । যার হাত ধরেই পৃথিবীর আলো দেখতে তুমি শুরু করেছিলে, যার উপর নির্ভরশীলতা ছিল তোমার অনেক বেশি ।

তোমার জীবনকে চেনার এবং বোঝার জন্য যে মানুষটি কখনো অর্ধাহারে-অনাহারে থেকেও তোমাকে কখনো না খেয়ে থাকার কষ্টটা বুঝতে দেয়নি। তুমি এক দিন বড় হবে , স্বপ্ন পূরণ হবে , আমি বাবা আমার মনের ঘরে আশার ইমারত তৈরী করেছি প্রতিদিন ।

আফসোস তারাই আজ তোমার নিকটআত্মীয় , যারা আজ তোমার কাছ থেকে সুবিধাগুলো গ্রহণ করছে । তারা তোমার কেউ ছিল না কখনো । কখনো তোমার পাশে এসে সান্তনার হাত মাথায় বুলিয়ে দিয়ে বলেনি বাবা তুমি বড় হও । দায়িত্ব গ্রহণ করেনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কোনো অভিপ্রায়ে। স্ত্রীর আত্মীয় তোমার নিকট আজ অতিপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

আজ তোমাকে অভিশাপ দিতে কলম ধরিনি, এ আমার কোন আশীর্বাদ কিংবা অভিশাপের ভাষা নয় এ আমার হৃদয়ের রক্তক্ষরণ । আজ কেন যেন মনে পরে যাচ্ছে তুমি দুধের সর খেতে ভালো বাসতে, তোমার বুদ্ধি হওয়া অবধি , ইচ্ছে থাকা সত্ত্বে ও দুধের সর আর কখনো আমার খাওয়া হয়ে ওঠেনি । আমি মাছের মাথা খেতে পছন্দ করতাম, যেদিন তুমি মাছ খেতে শুরু করলে সেদিন থেকে শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও খাওয়া হয়ে উঠেনি কখনো ।

স্বাচ্ছন্দে তোমাকে খাবারগুলো খাইয়েছি , তোমার বুদ্ধি বাড়বে, তুমি পড়াশোনা করবে , মানুষের মত মানুষ হবে, একদিন এই খাবারগুলো আমার সামনে এনে দিয়েই হয়তো কিছুটা দায় থেকে তুমি নিষ্কৃতি পাবে , এটাই ভাবতাম। কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি কখনো আদৌ হবে বিশ্বাস ও করতে চাইনা।

আমি বাবা আমার এই হৃদয়ের রক্তক্ষরণ সেদিনই বন্ধ হবে, যে দিন এই সমাজটাকে বদলাতে সন্তানেরা বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিবে। সুন্দর সুখী এবং সমৃদ্ধি শালী সমাজব্যবস্থা তথা রাষ্ট্র হবে দায়িত্বশীল ভূমিকার একমহান অধিপতি । বাবারা হবে গর্বের এক মহাপ্রাচীর ।

আজ আমার এই পরন্ত বেলায় শেষ ইচ্ছাটুকু রেখে যেতে চাই, আমার অন্তিম শায়নে,এবং সমাধিতে দাঁড়িয়ে একগুচ্ছ ফুল বা দুমুঠো মাটি দিতে না পারলেও দুফোটা চোখের জ্বল দিয়ে, দায় গ্রস্থ্য সন্তানের ঋণ পরিশোধ করো। পিতা হিসাবে সন্তানের কাছে এই আকুতি রেখে গেলাম।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..