বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ষড়য‌ন্ত্রের প্রতিবা‌দে মান্দায় ম‌হিলা আওয়ামী লী‌গের বি‌ক্ষোভ সমা‌বেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান মহিমাগঞ্জ চিনিকলের আখচাষী ও শ্রমিক কর্মচারীদের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ ফুলছড়িতে ইউনিয়ন যুবলীগের অফিস উদ্বোধন করলেন ডেপুটি স্পিকার গোবিন্দগঞ্জে উগ্র-মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় রায়গঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যু দুর্গাপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের আত্মহত্যা বঙ্গোপসাগর থেকে ৩ লাখ ইয়াবাসহ সাত মিয়ানমার নাগরিক আটক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কার্য্য হুমকি প্রদানকারী মমিনুল হকের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন ধামইরহাটে আওয়ামী মহিলালীগের জঙ্গিবাদ- সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী র‌্যালি ও বিক্ষোভ সমাবেশ ধামইরহাটে কর্মজীবি ল্যাকটেটিং মাদার হেলথ ক্যাম্পে সেবা পেল ৪ শতাধিক মা খুলনা মহানগরীতে মাদক বিরোধী অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৪ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ও পুনর্বাসন সোসাইটি কেন্দ্রীয় যুব কমান্ডের মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা শাখার কমিটি গঠন রাজশাহীতে পৌরনির্বাচন কে কেন্দ্র করে তৃনমূল সিলেকশন ভোট নিয়ে অসন্তোষ

দাম বৃদ্ধি করলে চাল আমদানি হবে

অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৭৯ বার পঠিত

মিলগেটে ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা সর্বোৎকৃষ্ট মিনিকেট ২৫৭৫ টাকা এবং আটাশ চালের দাম ২২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ভালো মিনিকেট প্রতি কেজি সাড়ে ৫১ টাকা এবং আটাশ চাল ৪৫ টাকায় বিক্রি করতে হবে। কোনোভাবেই আর চালের দাম বাড়ানো যাবে না। গত এক সপ্তাহে যে পরিমাণ দাম বেড়েছে তাও কমিয়ে আনতে হবে। নইলে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করবে সরকার। তখন বুঝবেন চাল ব্যবসার মজা। মঙ্গলবার খাদ্যভবনে চালকল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে এমনই কঠোর বার্তা দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, অসাধু চালকল মালিকরা অবৈধভাবে ধান ও চাল মজুদ করে রাখার জন্য বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে। আমার নিজের এলাকায় হাজার হাজার টন ধান মজুদ রয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মিল মালিকদের জরিমানা করা হয়েছে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী যখন চাল আমদানির অনুমোদন দিলেন, তখন আপনারা আমাকে বললেন দয়া করে এটা করবেন না। তাহলে চাল ব্যবসায়ী ও কৃষক মরে যাবে। দাম পাবে না। আপনাদের কথামতো তাই করলাম, তারপরও চালের দাম বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তোমরা (মন্ত্রী-সচিব) ঘুমাও। চালের বাজার আমার ওপর ছেড়ে দাও। ৭ দিনের মধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণ করব। কিন্তু আমি চাই না- চাল ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। তারা ব্যবসা করুক এটা আমিও চাই। তাই বলছি সরকার নির্ধারণ করা দাম অনুযায়ী চাল বিক্রি না হলে আমরা চাল আমদানি করতে বাধ্য হব। বাজারে চালের দাম ১৫ দিন আগে যা ছিল, সেই দামে পুরো অক্টোবর মাস চাল বিক্রি করতে চালকল মালিকদের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু চাল ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে খাদ্যমন্ত্রী ১৫ দিন আগের দামে চাল বিক্রির নির্দেশ দিয়ে সভা শেষ করেন। পরে খাদ্যমন্ত্রীকে ঘিরে ধরেন চালকল মালিকরা। তারা প্রতি বস্তা চালের দাম নির্ধারণ করার অনুরোধ করেন। নইলে দাম নিয়ে হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। এরপর খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের রুমে আবারও চালকল মালিকদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন খাদ্যমন্ত্রী। এরপর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মিনিকেট চাল (মিলগেট মূল্য) প্রতি ৫০ কেজি বস্তার মূল্য ২৫৭৫ টাকা এবং মাঝারি চাল (আটাশ) প্রতি ৫০ কেজি বস্তার মূল্য ২২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৈঠকে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, কৃষকদের কাছে ২ শতাংশও ধান মজুদ নেই। নয় দিন নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট এলাকায় ঘুরেছি। বড় বড় মিলার কিছু পরিমাণ ধান মজুদ রেখেছে এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু দেখা গেছে মিল বন্ধ, লাইসেন্সও নবায়ন করেনি অথচ সেসব মিলেও ৫০০ থেকে দেড় হাজার টন ধান মজুদ রেখেছে। একটা বন্ধ মিলে ১ হাজার ৪৪৭ টন ধান ও ৭০০ টন চাল মজুদ করে রাখা হয়েছে। এটা কী পরিকল্পিতভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা হচ্ছে না? ধানে গাছ গজিয়ে গেছে, এগুলো কার ধান। তিনি বলেন, গত দু’দিন আমি গোপন সার্ভে করে প্রায় ৫০টা মিলের খোঁজ পেয়েছি; এসব মিলে নিম্নে ২০০ টন, সর্বোচ্চ ৩ হাজার টন ধান মজুদ রয়েছে। এ সার্ভে যদি আরও সাত দিন করা হয় তাহলে শত শত চালকল পাওয়া যাবে সেখানে এভাবে ধান মজুদ রাখা হয়েছে।

বৈঠকে মিল মালিকরা বলেছেন, তাদের কাছে কোনো ধান-চাল অবৈধ মজুদ নেই। তাদের এই বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বেশি গলাবাজি করবেন না। আমার কাছে সব খবর আছে। অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু হয়েছে। আমার নিজ এলাকা নওগাঁ দিয়েই অভিযান শুরু করেছি। একদিনে ১৮টি মিলে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরদিন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে হাস্কিং মিল মালিকদের সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অভিযান না চালানোর অনুরোধ জানিয়ে এসেছেন। তারা বলেছেন, আমরা বাজারে সরবরাহ বাড়াচ্ছি, দয়া করে পুলিশ পাঠাবেন না। এরপরও কি আপনারা বলবেন কোনো মজুদ রাখেননি। মন্ত্রীর বক্তব্যের পর মিল মালিকরা নীরব ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার নওগাঁয় অভিযান চালিয়ে মহদেবপুরের মেসার্স জে কে এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজকে দুই লাখ টাকা, মেসার্স সাপাহার চালকলকে এক লাখ টাকা, মেসার্স সোনালী ট্রেডার্সকে ৭০ হাজার টাকাসহ ১২টি মিলকে মোট সাড়ে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেছে মোবাইল কোর্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..