সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
খাগড়াছড়ি কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন: সভাপতি হাজী কাশেম, সেক্রেটারী মনির আহমদ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের বিরুদ্ধে প্রগতিবাদীদের রুখে দাঁড়াতে হবে নড়াইলে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্যের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন পরীক্ষার দাবিতে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধী বিদ্যালোগুলো এমপি ভূক্ত করার দাবীতে মানববন্ধন রাকিবুল হাসান মানিকছড়িতে ইফা’র কাশেম’র ক্ষমতার অপব্যাবহার ও অর্থ-আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ, পর্ব-১ ধামইরহাটে ভেজাল বিরোধী অভিযানে বিভিন্ন স্থানে অর্থদন্ড, জনমনে স্বস্তি পলাশবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার মাঝি আবু বকর প্রধানের নির্বাচনী প্রচার ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত সাপাহারে ক্লিনিক ব্যাবসার ভোগান্তি হতে প্রতিকার চান সাধারণ মানুষ পৌর নির্বাচনে ফুলবাড়ীতে নৌকার প্রার্থী খাজা মঈন উদ্দিন চিশতি নড়াইলে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধান বীজ বিতরণ সাপাহারে মানবিক বাংলাদেশ এর বার্ষিক সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন সাপাহারে বীর মুক্তযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন চকরিয়ায় জমি বিরোধে ছাত্রলীগ নেতা খুন:আটক-১ গভীর রাতে শীতার্তদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিলেন ইউএনও

দুই গ্রুপের সংঘর্ষে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহত ৪ জন

অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় বুধবার ৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৩৬ বার পঠিত

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে লম্বাশিয়ার চারমুয়া (চৌমুহনী) তাবলিগ জামাতে মরকজ এলাকায় উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছে এবং আরও বিশ জন আহত হয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছয় দিনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১১ জন নিহত হল। একের পর এক এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ রোহিঙ্গারা আতঙ্কে রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছে। লাশগুলো উদ্ধারের বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেছেন। ক্যাম্পের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহমেদ সঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, মঙ্গলবার রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতরা হল- মুন্না ও তার ভাই মোহাম্মদ এবং গিয়াস উদ্দিন। চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) অফিস সূত্র ।

থানা সূত্র জানায়, মঙ্গলবার পর্যন্ত উখিয়া থানায় চারটি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশ এজাহারভুক্ত এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। তার নাম জিয়াউর রহমান (২০)। কুতুপালং রেজি. ক্যাম্পের ডি ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহীমের ছেলে জিয়া। অপরদিকে র‌্যাব পৃথক অভিযান চালিয়ে ৯ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করে। আটকরা হল- রশিদ আহমদ (৩২), ছলিমুল্লাহ (৫৫), শফিক আলম (২০), আবদুল হামিদ (২০), সাবের (৩২), ছালাম (৫০), ইসমাইল (২৫), হারুনুর রশিদ (২৮) ও ফয়েজ (২২) । এ সময় ৪টি দেশি অস্ত্র, ২০ রাউন্ড কার্তুজ, ধারালো কিরিচ, লোহার রড ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক হামলা-নির্যাতনের ঘটনায় ক্যাম্পে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাম্পজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ এনজিও অফিস, যান চলাচল এবং দোকানপাট। তবে ফাঁকা সড়কে টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ভয়ে সাধারণ রোহিঙ্গারা কুতুপালং টু-ইস্ট ক্যাম্পের তাবলিগ জামাতের মারকাজে (মসজিদ) আশ্রয় নিয়েছে। সরেজমিন মঙ্গলবার কুতুপালং, লম্বাশিয়া, মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে এমন অবস্থা দেখা যায়।

লম্বাশিয়া ক্যাম্পের চৌরাস্তার মোড়ে দায়িত্বরত রহমান নামের এপিবিএনের (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) এক উপপরিদর্শক বলেন, ৫ দিন ধরে ক্যাম্পে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দিনের বেলায় কিছুটা পরিবেশ ভালো থাকলেও রাতের বেলায় গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কুতুপালং টু-ইস্ট ক্যাম্পের বাসিন্দা আহমদ উল্লাহ বলেন, মৌলভী হামিদ, খাইরুল আমিন, আবু আহমেদ, মাস্টার এনাম বাহিনী নির্যাতন চালাচ্ছে। এ কারণে কুতুপালং টু-ইস্ট ক্যাম্পের তাবলিগ জামাতে আশ্রয় নিয়েছি। তার মতে, সেখানে প্রায় ২ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

কুতুপালং পুরাতন রেজিস্টার্ড শরণার্থী ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল আহমদ জানান, সন্ত্রাসীদের দুই গ্রুপের অত্যাচার-নির্যাতনের কারণে ক্যাম্প ছেড়ে অন্য ক্যাম্পে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে অনেক মানুষ। সন্ত্রাসীদের দু’গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই গোলাগুলি হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত ১৪ এপিবিএনের পরিদর্শক ইয়াসিন ফারুক জানান, নতুন এবং পুরনো রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিরোধের জের ধরে খুনের ঘটনা ঘটছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলমান ঘটনায় পৃথকভাবে ৪টি মামলা হয়েছে। কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে ইনচার্জ (সিআইসি) খলিলুর রহমান খান বলেন, ইয়াবা ব্যবসা ও চাঁদাবাজি নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের সন্ত্রাসীরা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..