শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১০:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
দুর্গাপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১’শ ফেন্সিডিলসহ বোতলসহ গ্রেপ্তার ২ দুর্গাপুরে কয়লা ভর্তি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী যুবকের মৃত্যু খাগড়াছড়ি-ঢাকা রুটে নতুন সংযোজন বিলাসবহুল গ্রীন লাইন সেবা পানছড়িতে ব্রীকফিল্ডে সন্ত্রাসী হামলা চকরিয়া-পেকুয়ায় বনের কাঠে তৈরী হচ্ছে অবৈধ ফিশিং বোট ধামইরহাটে সোনার বাংলা সংগীত নিকেতনের বার্ষিক বনভোজন ধামইরহাটে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কুড়িগ্রাম সদরে হেরোইনসহ ৩ যুবক আটক চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যাত্রীবেশে চলন্ত বাসে ডাকাতি, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৯ রাজশাহীতে বালু তুলতে পদ্মা ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের দৌড়-ঝাপ জেলের জালে ২৬ কেজি ওজনের কাতল, বিক্রি হলো ৩০ হাজার টাকায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় পরিবারের খোঁজ খবর নেয়না স্বামী কুড়িগ্রামের কৃষকেরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ইরি-বোরো মৌসুমের ধানের বীজতলা তৈরিতে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় মাস্ক ব্যবহার না করায় জরিমানা ২২জনের

পলাশবাড়ীতে আইপিএল জুয়ায় ধ্বংসের মুখে যুব সমাজ

আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৫৮ বার পঠিত

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) শুরু হওয়ায় ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে বিরাজ করছে আনন্দের বন্যা। ক্রিকেটপ্রেমী বিভিন্ন বয়সের ও শ্রেণি পেশার মানুষ খেলা দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন শহর ও গ্রামের হাট-বাজারের বিভিন্ন হোটেল ও চায়ের দোকানে। এরই সুবাদে এক শ্রেণী মেতে উঠেছে আইপিএলের চার-ছক্কার জুয়ায়। বলের উইকেটে ও ব্যাটের রানে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা। ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে শিক্ষার্থী উদীয়মান যুবসমাজ।

এ খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার অধিকাংশ হাট-বাজারে শুরু হয়েছে জমজমাট জুয়ার আড্ডা। মধ্য বয়সী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এ জুয়া খেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। এ সর্বনাশা খেলায় কেউ রাতারাতি পকেট ভারি করছে আবার কেউ নিঃস্ব হয়ে শূন্য পকেটে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।

ক্রিকেট বিশ্বব্যাপী এখন জনপ্রিয় খেলা। এই খেলাকে কেন্দ্র করে ফিক্সিং হয়, খেলোয়াড় কেনাবেচা হয়, অর্থ লেনদেনে প্রতিপক্ষের দাপুটে খেলোয়াড়কে বশে এনে খেলায় জয়-পরাজয় নির্ধারণ করা হয়। এই খেলা নিয়ে দেশে দেশে চলে বড় অঙ্কের জুয়া, ধরা হয় বাজি।সর্বনাশা এই ক্রিকেট জুয়া চলছে পলাশবাড়ীতে।

আইপিএল ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছে যুবসমাজ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হোটেল, চায়ের দোকানে, আইপিএল ক্রিকেট খেলা উপভোগ করতে গিয়ে দেখা যায় জুয়ার আসর। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা না থাকায় এ আসর দিন দিন জমজমাট হয়ে উঠছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ক্রিকেট খেলার যেন উন্মাদনার ঝড় বইছে পলাশবাড়ীর সর্বত্র। ক্রিকেট প্রেমিক যুবসমাজের মাঝে বিরাজ করছে এক প্রকারের ক্রিকেট উন্মাদনা।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, যুবসমাজের একটি বড় অংশ এই খেলাটিকে জঘন্য জুয়ার আসরে পরিণত করেছে। তারা মূলত আইপিএল খেলা উপভোগ করে জুয়া খেলার উদ্দেশ্যেই। খেলা শুরু হলে প্রতি ওভারে ওভারে জুয়া খেলায় টাকার অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। অপরদিকে প্রতি রানে-রানে প্রতি বলে-বলে ধরা হয় হাজার হাজার টাকার বাজি। কোন ব্যাটসম্যান বেশি রান তুলবে, কোন বোলার অধিক উইকেট শিকার করবে, কোন তারকা ব্যাটসম্যান কতটি ছক্কা অথবা চার হাঁকাবে এ নিয়ে চলে জুয়ার দর কষাকষি। সবশেষে পছন্দের দলের হারজিত নিয়েও চলে বড় অঙ্কের টাকার খেলা।

দুর্বল টিমের সঙ্গে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের খেলা থাকলে সে ক্ষেত্রে দেয়া হচ্ছে লোভনীয় অফার। বাজিকরদের রমরমা বাজি। টেলিভিশনের সামনে বসে খেলা দেখা দর্শকদের মাঝে চলে দর কষাকষি। এক ম্যাচের পাওয়ার প্লেতে কত রান হবে! ৫-১০ ওভারে কত রান হবে! খেলায় কে কতটি উইকেট পাবে! কে কত রান করবে ইত্যাদি বাজিতে মেতে উঠে ক্রিকেট জুয়াড়ীরা।১৫-২৮ বছর বয়সীরাই ক্রিকেট জুয়ায় আসক্ত।

ধনীর দুলালরা বাজি ধরেন মোবাইলের মাধ্যমে ক্ষুদে মেসেস বার্তা দিয়ে। তাদের বাজি ধরার ধরন ভিন্ন এবং বড় বাজেট। মোবাইল ফোনের বড় বাজি ধরার কথাগুলো রেকর্ড করে রাখে। দলগত হার-জিত নির্ধারণ বাজির পাশাপাশি চলে ওভার বা বল বাই বল বাজি।

যেখানে খেলা দেখার লোকসমাগম বেশি হয় মূলত সেখানেই এই জুয়ার আসর জমজমাট হয়। সাধারণত পাড়া মহল্লার চায়ের দোকানে অথবা যেখানে বড় স্ক্রিনে বিপিএলের খেলা দেখানো হয় সেখানেই এ জুয়ার আসর বসে, যা কেউ বুঝতে পারে কেউ পারে না। এসব জুয়াড়িরা কৌশলগত কারণে বরাবরই থেকে যায় প্রশাসনের দৃষ্টির আড়ালে। এভাবে পলাশবাড়ী উপজেলার প্রতিটি হাট বাজারে ও প্রত্যন্ত গাঁয়ে আইপিএলকে ঘিরে বসছে জুয়ার আসর।

হাট-বাজারে জুয়া খেলার মতো ক্রিকেট জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের সর্বস্বান্ত হওয়ার কথা জানা যায়।অন্য সব জুয়াড়িকে আটক বা গ্রেফতার যতটা সহজ, ক্রিকেট জুয়াড়িদের গ্রেফতার ততটা সহজ নয়।প্রযুক্তিনির্ভর (মোবাইল) হওয়ায় এ জুয়াও বন্ধ করা সহজ নয় বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে ক্রিকেট বাজিতে হেরে বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে।

জুয়াড়িদের পাতা ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ উদীয়মান যুবসমাজ। সচেতন অভিভাবক মহল চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তাদের সন্তানদের অনাগত ভবিষ্যতের কথা ভেবে। অত্র এলাকার সচেতন অভিভাবক মহল ও জনগণের দাবি প্রশাসন কঠোর নজরদারির মাধ্যমে ওই সমস্ত যুবসমাজকে অনৈতিক জুয়ার জাল থেকে বের করে আনতে দৃষ্টি দিবেন। সমাজের সকল অপকর্ম থেকে রেহাই পেতে অভিভাবকদের দৃঢ় সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক, প্রশাসনিক গোয়েন্দা নজরদারি খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে বলে অভিমত সুধিসমাজের।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..