শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:০১ অপরাহ্ন

ধর্ষিত বাংলা মাতা!!

mm
নূর মোহাম্মদ রিমন, ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর
  • আপডেট সময় সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২০
  • ২৯৪বার পঠিত

Sex Assault, Physical Harassment অথবা ধর্ষণ কে সাধারণত মনুষ্য জীবনের জৈবিক চাহিদা কুপথে চরিতার্থ করা প্রবৃত্তিকেই বুঝায়। এই সমস্যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও প্রকট আকার ধারণ করেছে। উইকিপিডিয়ার রিসার্চ অনুযায়ী ৬৫টি দেশের ২,৫০,০০০ (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) পুলিশ কেস আদালতে বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই গবেষণার বাইরে দিয়ে সামাজিক ভাবে বিচার করা, প্রভাবশালীদের চাপে চেপে যাওয়া, সম্মানের ভয়ে চুপ করে থাকা অথবা ভিডিও ফুটেজ নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ অপরাধ হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকার উক্ত বিষয়ের উপরে কিছু কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও সেটা ফলপ্রসূ কিনা তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সরকারি কার্যক্রম অনুযায়ী পর্নো মুভির সব ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যদিও উন্নত প্রযুক্তির কারণে VPN সফটওয়্যার ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থানকে বিশ্বের অন্য কোন দেশে দেখিয়ে অনেকে অনায়াসে পর্ন সাইটে আড্ডা দিচ্ছে। আমাদের দেশে একসময় হোটেলে রমরমা দেহ ব্যাবসা থাকলেও বর্তমান সরকারি প্রশাসনিক তদারকিতে অনেকটা কমে এসেছে। যেহেতু ধর্ষণ বিষয়ে বিভিন্ন দেশে, আলাদা আলাদা ধর্মে এবং ব্যক্তি মতামতে ধারণাটা একেক রকম। সেজন্য বাংলাদেশ রাজনৈতিক সমাজ এটাকে তাদের বিরুদ্ধে নেগেটিভ ইস্যুর চক্রান্ত বলে মনে করছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এটাকে হোটেল ব্যবসা বন্ধের কারণে দায়ী করছে, ধর্ম এটাকে পর্দাহীনতা ও অপ-সংস্কৃতিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

সাধারণভাবে চিন্তা করলে অপসাংস্কৃতির চর্চা ও তার পাশাপাশি সবচেয়ে যে বিষয়টা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে বিবেচিত হয় তা হল বাংলাদেশের আইনি অস্পষ্টতা, কঠোরতার অভাব এবং উক্ত আইন প্রনয়নে কালক্ষেপণ। বাংলাদেশের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খবরের পাতায় পাতায় ধর্ষণের খবর পাওয়া গেলেও হঠাৎ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির দৌড়ে পিছিয়ে পরে গেছে। এটাও বলা যায় যে, আবার কোন মা বোন ধর্ষিত না হওয়া অবদি বাংলার টনক হয়তো নড়বে না। এই ঘৃণ অপরাধপ্রবণতার কারণে আজ উইকিপিডিয়ার রেড মার্ক ওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশের মানচিত্র কে লাল রং করা হয়েছে। তারমানে আমরা সর্বোচ্চ বিপদজনক অবস্থায় অবস্থান করছি। এটা সত্যি অনেক লজ্জাজনক।

মেডিক্যাল সায়েন্স এর ভাষ্যমতে, প্রত্যেক সাধারণ মানব মস্তিষ্কের ২ অংশ জুরে থাকে নৃশংসতা, যার কারণে একজন স্বাভাবিক মানুষ বিল্ডিং এ আগুন লাগা দেখে, লঞ্চ অথবা নৌকাডুবি ভিডিও দেখে, এক্সিডেন্ট দেখে, অথবা মানুষ হত্যার ভিডিও দেখে আহ্ উফ্ উহ করেও শান্তি অনুভব করে। যদিও এটা ব্রেন ফাংশনের কাজ, সাধারণ মানুষের এতে কোন দোষ বা ভুল নেই। যারা এই ব্রেন ফাংশন কে ইন্ধন দেয় তারাই এই নৃশংসতার থেকে কম বয়সী মেয়ে, সম বা যেকোনো বয়সের নারী অথবা পুরুষের সাথে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করে তার রুচি কে খারাপের দিকে নিয়ে যায়। যে অন্যায় প্রবৃত্তি পরে কন্ট্রোলের বাইরে চলে যায়।

উইকিপিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী উক্ত অপরাধ প্রবণতার বিশ্বের সেরা ১০ দেশের তালিকা:
১.সাউথ আফ্রিকা
২. সুইডেন
৩. আমেরিকা
৪. ইংল্যান্ডের ও ওয়্যালস
৫. ইন্ডিয়া
৬. নিউজিল্যান্ড
৭. কানাডা
৮. অস্ট্রেলিয়া
৯. জিম্বাবুয়ে
১০. ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ড।

আয়তনে অনেক ছোট হলেও রেঙ্কিং পজিশনে ৯.২৮ পয়েন্ট টেবিল দখল করে ৪০ নম্বরে আছে আমাদের সোনার বাংলা। উক্ত বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আইনের প্রতি যথেষ্ট কঠোর নজরদারি, সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দ্রুত আইন প্রণয়ন এবং প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব অবস্থান থেকে নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মান প্রদর্শন আমাদের এই দেশকে কলঙ্ক মুক্ত করতে পারে।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..

Adcash

Adcash