মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
পৌরসভা নির্বাচন ২০২০, মেয়র প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতিক পেলেন যারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ সাঘাটায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত দূর্গাপুরে কৃষক লীগের উদ্যোগে প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি বীজ বিতরণ কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় ৪২ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২০ পালিত কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় অটো থেকে ছিটকে নারী মৃত্যু ১ সাপাহারে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এজেন্ট শাখার শুভ উদ্বোধন আলোর পথযাত্রী’ সহায়তায় সুস্থ হলেন ভ্যান চালক নাছের ধামইরহাটে দার্জিলিং জাতের কমলার চারা রোপন ধামইরহাটে জঙ্গিবাদ মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যুবলীগের বিক্ষোভ সমাবেশ বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন একসঙ্গে ৪৩ জন সাঁতারু র‍্যাবের অভিযানে চকরিয়ায় বাস ডাকাতির ঘটনায় ৬ ডাকাত গ্রেফতার ধামইরহাটে অজ্ঞাত রোগে মাছে মড়ক, ৩০ লাখ টাকার ক্ষতিতে মৎস্যচাষী’র হাহাকার চকরিয়ায় হরিনের মাংস বিক্রির অভিযোগে ১ ব্যক্তির ৩ মাসের সাজা পুঠিয়ায় মাস্ক না পরায় সচেতনতার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অর্থদন্ড

গাইবান্ধায় পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে দিশেহারা সাধারণ, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা

আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ৮৬ বার পঠিত


বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা বারবার শোনা গেলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। ১৪ অক্টোবর বুধবার গাইবান্ধার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজসহ সব নিত্যপণ্য। জেলার বিভিন্ন খোলা ও পাইকারী বাজারে শীতকালিন শাক-সবজি ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সাধারন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। দিশেহারা সাধারণ, মধ্যবিত্ত ও নিম্মমধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা। অন্যদিকে দাম বাড়া ও কমা নিয়ে ততটা চিন্তিত নন সরকারী চাকুরিজীবী, ব্যাংকার ও উচ্চবিত্তরা।

সবজিবাজারে যেন আগুনের আঁচ লেগেছে। পেঁয়াজের সাথে পাল্লা দিয়ে সবজির দাম বেড়ে চলছে হু হু করে। বাড়ছে নিত্যপণ্যের দামও, সাধারন ক্রেতাদের ওপর চেপে বসেছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বোঝা। সবজির চড়া দামের সাথে গাইবান্ধার বাজারে বাড়ছে চালের দামও। স্বস্তি নেই অন্যান্য নিত্যপণ্যের বেলাতেও। নানা অজুহাতে এসব পণ্যের দাম বাড়ছে। জীবন ধারণের উপযোগী প্রতিটি জিনিসের দামই চড়া। কোনো কোনো পণ্যে অস্বাভাবিক মুনাফা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজারে দু’শ টাকায় ঠেকেছে কাঁচামরিচের কেজি, পঞ্চাশ টাকার নিচে মিলছে না শাকের আঁটি। প্রতি পিস পেঁপে ও চালকুমড়া চল্লিশ টাকায় মিললেও জেলা শহরের পুরাতন বাজারে প্রকারভেদে ষাট থেকে একশ চল্লিশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সবজি। বাজারে ৬০ থেকে ৮০ টাকার নিচে মিলছে না তেমন কোনো সবজি। ঝিঙ্গে ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, বেগুন, পটল, শসা ৭০ টাকা, টমেটো, গাজর ১শ’ ৪০ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৯০ টাকা, মরিচ ২শ’ টাকা, রসুন ২শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এ জন্য ব্যবসায়ীরা বন্যার দোহাই দিলেও সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন ভোক্তাসাধারণ।

শহরের বাসিন্দা আনিসুজ্জামান বলেন, সবজির বাজারতো আগুন। কোনো সবজিই আগের দামে নেই। মাছ মাংস বাদে সবজির জন্য তার বরাদ্দ ছিল তিনশ’ টাকা। আটশ’ টাকাতেও ব্যাগের তলানিতে শাকসবজি। বাজারে মধ্যবিত্তদের যখন ঘাম ছুটছে তখন নিম্নবিত্তদের অবস্থা আরও করুণ। তিনি বলেন, আগে সবজি এককেজির নিচে কিনতাম না। যে দাম বেড়েছে, তাতে ক্রয়ক্ষমতা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

এদিকে কম আয়ের মানুষের কাছে খাবারের পাতে ডিমই এখন একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেই ডিমের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের বাজার খরচ বেড়েই চলেছে। শফিকুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, বাজারে অন্যান্য সব জিনিসের সঙ্গে সবজির দাম বাড়াতে খাবারে বেশিরভাগ সময় ডিম রাখা হয়। করোনা ও বন্যার আগে শ’প্রতি লাল ডিম ৬০০ টাকা, সাদা ডিম ৬৫০ টাকা দরে কিনেছি। কিন্তু বর্তমানে খুচরা বাজারে শ’প্রতি লাল ডিম ৮৫০ টাকা, সাদা ডিম ৮৮০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে।

জেলা শহরের পুরাতন বাজারের সবজি বিক্রেতা রফিকুল বলছে, সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় দাম বেড়েছে। পরপর চারদফা বন্যায় শাক-সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে, ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কম। তাই বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। এর প্রভাবে জেলার আশপাশের উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোয় প্রায় সব ধরণের সবজির দামই বেড়েছে।

আলমগীর নামে ডিমের পাইকার ব্যবসায়ী বলেন, বন্যায় জেলার বেশিরভাগ ডিম উৎপাদনকারী পোল্ট্র ফার্ম পানিতে ডুবে যায়। ফলে ডিমের সরবরাহ কমে গেছে। আগে ১০টি পোট্রি ফার্ম থেকে ডিম কেনার সুযোগ ছিল। এখন মাত্র ৪ টি পোল্ট্রি ফার্ম থেকে ডিম পাচ্ছি।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারের সরবরাহ কম থাকায় সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। অপরদিকে সাধারণ ক্রেতাদের অনেকের সাথে কথা বললে তারা বলেন, বাজার তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা মত পণ্যসামগ্রীর দাম বাড়িয়ে চলেছে।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার বেশকিছু কারণ বেরিয়ে এসেছে। গ্রহণযোগ্য অনেক কারণের পাশাপাশি অগ্রহণযোগ্য অনেক কারণও মিলেছে। এমন কিছু কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে যা চাইলে সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলো হচ্ছে- চাহিদা ও যোগানের মধ্যে অসমতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, মজুদদারি ও অতি মুনাফা, বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কম থাকা বা কোথাও কোথাও একেবারে না থাকা। আবার হঠাৎ করে চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে পারে। পণ্যবাহী গাড়ীর ভাড়া বৃদ্ধি ও প্রচন্ড বৃষ্টির কারনে ফসলি ক্ষেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গিয়ে সবজির ব্যাপক ক্ষতির কারন। এভাবে নানা অযুহাতে বেড়েই চলেছে চাল, ডাল, তেল, চিনি, মাছ, মাংস, ডিম ও সবজিসহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দ্রব্যের দাম। বিক্রেতারাও ইচ্ছা মাফিক জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করে চলেছে। আর এই দাম বৃদ্ধির জন্য চলছে একে অপরকে দোষারোপের পালা। খুচরা ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী, হোলসেলাররা, মিলমালিক ও আমদানিকারকরা, একে অপরকে দায়ী করে চলছে প্রতিনিয়ত।

পলাশবাড়ী পৌরশহরের কালিবাড়ী হাটের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর দাম বেড়ে গেছে। শীতের তরিতরকারি বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

জেলা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুস ছালাম জানান, ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সব সময় জেলার বিভিন্ন বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এবার পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে শাক সবজির আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে বন্যায় নষ্ট হয়েছে ৪৬২ হেক্টর সবজি ক্ষেত।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..