শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
দিনাজপুরে এন্টি টেররিজম ইউনিট কর্তৃক জঙ্গী সংগঠন আল্লাহর দলের আঞ্চলিক প্রধান আটক পলাশবাড়ী পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু হবে-নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম খুলনা মহানগরীর শিরোমনি মধ্যপাড়া এলাকায় সেনা সদস্য আলামীন শেখের পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছেন তার স্ত্রী কুড়িগ্রামের রাজার হাটে হিরোইন ও ইয়াবাসহ ২ যুবক আটক সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে…” বিজয় সরকারের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (৪ ডিসেম্বর) পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত কমিটির দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত গোবিন্দগঞ্জে চা দোকানীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার মাদক কারবারিদের বাড়ির সামনে ছবি টাঙ্গিয়ে দেওয়া হবে ভোটারের মন জয় করতে যাদু কুড়িগ্রাম পৌর নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থীদের মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে ৫জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্দেশে মাদক সেবনের অপরাধে জেল ও জরিমানা খুলনা মহানগরী সহ ও খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় একযোগে ১৬টি ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সমাহিত হলেন জনপ্রিয় শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতা দেওয়ান হালিমুজ্জামান ধামইরহাটে সড়ক ও জনপদের কাছে জনগণের অসন্তোষ-ক্ষোভ প্রকাশ গুইমারায় আলোচিত স্বামী হত্যায় দায়ে স্ত্রীসহ ৫জনের মৃত্যুদণ্ড

পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতারণাপূর্বক অর্থ আদায় গ্রেফতার ১

মোহাম্মদ আলী রাজশাহী ব্যুরোঃ
  • আপডেট সময় বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২০
  • ৮৫ বার পঠিত

পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতারণাপূর্বক অর্থ আদায়, অবশেষে গ্রেফতার।

প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় চোখ রাখতো ফারুক হোসেন ফিটু। পত্রিকায় নিখোঁজদের সন্ধানে কিংবা কোনো কোনোকিছু হারিয়ে যাওয়ার বিজ্ঞপ্তি খুঁজতেন। বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়লেই ঠিকানা ও জিডির নম্বর সংগ্রহ করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি পরিচয় দিতেন। এরপর চলতো নিখোঁজদের সন্ধানকৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতারণা করে অর্থ সংগ্রহ। সব টাকা তিনি নিতেন বিকাশের মাধ্যমে।

গত চার বছর ধরে এভাবে শত শত মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে অর্থ সংগ্রহ করতেন ফারুক হোসেন ফিটু। এইজন্য তিনি ব্যবহার করতেন ১৬টি মোবাইল ও ২৪ টি সিম। সব সিম ও বিকাশ নম্বর রেজিস্ট্রেশনে তিনি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করতেন।প্রতারণা দায়ে গতকাল মঙ্গলবার তাকে পাবনা জেলার আমিনপুর থানার চক আব্দুল শুকুর এলাকা থেকে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।

ফারুক হোসেনের বাড়ি চক আব্দুল শুকুর গ্রামে। তার বাবার নাম নাদের শেখ। তিনি পাবনা কাজির হাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এরপর ২০০১ সালে ঢাকায় গিয়ে টপিক্যাল সিকিউরিটি হোম’স লিমিটেড নামক সিকিউরিটি কোম্পানিতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চাকরি করেন। এরপর তিন বছর পাবনায় থেকে ২০১২ সালে আবার ঢাকায় যান তিনি। ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্নস্থানে চা বিক্রি করেন। কিন্তু ২০১৭ সালের পর থেকে তিনি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতেন।

রাজপাড়া থানার এস আই (নিরস্ত্র) আরএমপি সদর দপ্তরে অভিযোগ করেন যে, রাজপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মাসুদ আলমের পরিচয় দিয়ে চারটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে নগরীর ডাবতলা এলাকার তিনজন ব্যক্তিকে ফোন করেন। ফোন করে পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি তদন্ত, উদ্ধার ও উদ্ধারকৃত ডকুমেন্ট পাঠানোর জন্য টাকা দাবি করে। পরে তারা থানায় অভিযোগ করলে দেখা যায় রাজপাড়া থানার এসআই মাসুদ ও থানার কেউ বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না। তখন রাজপাড়া থানা পুলিশ মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নম্বরগুলো প্রেরণ করে। নম্বরগুলোর পাওয়ার পর ২১ দিন বিশ্লেষণ করে সাইবার ক্রাইম ইউনিট মিথ্যা পরিচয়দানকারী ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে। এরপর তাকে পাবনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক। এসময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস, সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রধান উৎপল কুমার চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, ফারুক হোসেন গত কয়েকবছর ধরে পুলিশের ওসি, এসআই পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছেন। প্রতিমাসে কমপক্ষে ২০ জনের কাছ থেকে সারাদেশে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আরো তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..