রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৯:১৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের রেল খাত দুইটি ভাগে বিভক্ত

mm
নুর মোহাম্মদ রিমন, কলামিস্ট
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪০২বার পঠিত

বাংলাদেশের রেল খাত দুইটি ভাগে বিভক্ত। এই দুই সরকারি ও বেসরকারি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা প্রতিটি মহলের জানা। আমাদের দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির অনেক বড় অংশ আজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এই খাতের জন্য।

রাষ্ট্রের অন্যতম সেবায় নিয়োজিত রেল খাতের দুর্নীতি নিয়ে ইতোপূর্বে বহু প্রতিবেদন ও সংবাদ, প্রিন্ট মিডিয়া থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক মিডিয়া, সংসদ ভবন সহ বিভিন্ন গুণী জনের মতামতে প্রকাশ পেয়েছে। এসবের দৌড়ে দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) ও ঘাম ফেলেছেন।

তাদের প্রতিবেদনের মাধ্যমেও উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর কিছু কালো থাবার তথ্য, পাশাপাশি রেলওয়ের চিহ্নিত দুর্নীতি বন্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বরাবর ১৫টি সুপারিশের প্রতিবেদনও দাখিল করেছেন তারা। গত কয়েক বছরে রেলওয়ে খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেও প্রতিবছর ২.৫ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয় সরকারকে।

রেলের প্রধান দুর্নীতি খাতগুলো:
ভূমি অধিগ্রহণ, অযথা রেলের যন্ত্রপাতি ক্রয়, নামমাত্র যন্ত্রপাতি স্থাপন, লাইন নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি, যন্ত্রাংশের যথাযথ ব্যবহার না হওয়া ও আমদানিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি, স্লিপার কারখানা অকার্যকর রেখে আর্থিক ক্ষতি ইত্যাদি। এসবের পাশাপাশি প্রভাবশালী নেতাদের স্থাপনা যথা, দোকান তৈরি করে ভাড়া, অফিস রুমের জন্য বরাদ্দ, রেললাইনের দুই পাশে অবৈধ হকারি ব্যাবসার চুঙ্গি তুলে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।

এদিকে অনলাইন ও ডিজিটালাইজেশনের এর যুগে ভ্রমণের টিকিট ক্রয় করা ব্যতীত কেউ ভ্রমণ করতে পারছে না। যদি কেউ টিকেট ক্রয় ছাড়াই ট্রেনে ভ্রমণ করে তবে তাকে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ মাশুল। লজ্জা জনক হলেও সত্য যে, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও রাষ্ট্রীয় আয়ের সিংহভাগ আসে রেলখাত থেকে। বিপরীতে আমাদেরকে গুনতে হয় মোটা অংকের লোকসান।

দূর্নীতির কালো থাবা অন্ধকারে লুকিয়ে থেকেই ফায়দা লুটছে। পক্ষান্তরে উক্ত খাতের ভর্তুকি কমাতে বর্তমান সরকারের আমলে দুই দফায় রেলওয়ের ভাড়া বাড়ানোর চাপ এককভাবে পড়ছে যাত্রীদের উপর। এসব দুর্নীতি থেকে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি কে রক্ষা করার জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে প্রতিটি খাত আলাদা করলেও টেন্ডারবাজিতে একচ্ছত্র আধিপত্য এই সেবাকে করে রেখেছে দুর্নীতি গ্রস্থ।

আমরা চাই উক্ত খাতের ধারাবাহিক লোকসান এবং এই চরম অব্যবস্থাপনার মূল কারণ উদঘাটন পূর্বক শাস্তি ও স্বচ্ছতা প্রদান করা হোক।

একটি স্বচ্ছ নীতিমালা পূর্ণ পরিচালনা কমিটি যদি শক্ত হাতে বাংলাদেশ রেলওয়ে কে তদারকি করে তাহলে অবশ্যই আমরাও অনেক বড় একটা আয়ের অংশ হিসেবে এই খাতকে আশা করতেই পারি। একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে রেলওয়ে হতে পারে আমাদের দৃষ্টান্ত।

শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..