বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
সুন্দরবনের জামতলা থেকে ফাঁদ সহ পাঁচ হরিণ শিকারীকে আটক করেছে বনবিভাগ শীতার্থদের মাঝে ঘোড়াঘাট ইউএনও’র কম্বল বিতরণ রাজশাহীতে রাটা’র প্রথম সভা: সভাপতি আজাদ, সম্পাদক শরিফুল পলাশবাড়ীতে পাট বীজ চাষীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ আটক-২ পুঠিয়া পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন ও কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র দাখিল ভাস্কর্য বাঁচিয়ে রাখে একটি জাতির ইতিহাস ফুলবাড়ী পৌর নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিল সাপাহারে স্টার ডেকোরেট এর উদ্যেগে মাস্ক বিতরণ পুঠিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কর্ম বিরতি কালিয়ায় আ’লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল নড়াইল পৌর মেয়রের মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত সাপাহারে মানবিক বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যগে মাস্ক বিতরণ নড়াইল ও কালিয়া পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আবেদন কুড়িগ্রাম থানা পুলিশ বাস উপহার পেল আইজিপি কর্তৃক

নচ্ছার পুলিশ কয় লাশ কাটা ছেঁড়া করা লাগবে

মনোয়ার বাবু- সহ-বার্তা সম্পাদকঃ
  • আপডেট সময় রবিবার ৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ২৪১ বার পঠিত

পুলিশ যে হারে হারে বজ্জাত এটা অনেক আগেই টের পাইছি! এদের স্বভাব অনেকটা শকুনের মত! সব কিছুতেই খালি ছোঁক ছোঁক করে। ভাল জিনিসের মধ্যে ক্যামনে পেজগি লাগাইতে হয় এদের চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। একটা মেয়ে ছাগল চড়াতে গিয়ে মাঠের মধ্যে পড়ে ছিল! বাপ, মাও বলতেছে কোন সন্দেহ নাই! স্ট্রোক করে মরছে, তাও নচ্ছার পুলিশ কয় লাশ কাটাছেঁড়া করা লাগবে। এর চেয়ে অবিচার এর চেয়ে অনিয়ম আর কি হতে পারে! আফসোস! পুলিশ মানুষ হইল না!

ঘটনাটি গত পহেলা নভেম্বর ২০১৯ ইং! দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি থানার পৌরসভাভুক্ত কাঁটাবাড়ি-নয়াপাড়া গ্রামের মোঃ আশিকুর রহমানের স্ত্রী বাবলী খাতুন @ ফেলানী(২৭) হত্যা কান্ডকে নিয়ে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ফেলানী প্রতি দিনের ন্যায় মাঠে ছাগল চড়াতে যায়। হঠাৎ ঘটনার দিন সন্ধ্যা গোড়িয়ে মাগরিব পার হয়ে গেলেও ফেলানী বাড়িতে ফিরে আসে না কিন্তু ইতিমধ্যে বাড়িতে তার ছাগল গুলো চলে আসে।ফেলানী বাড়িতে না আসার কারণে তার ভাবী, ভাই আর বাবা খুঁজতে বাড়ী হতে অনুঃ ১ কিঃমিঃ দূরে ধানক্ষেতে গিয়ে দেখে শ্যালো মেশিনের ড্রেনের মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে আছে।সাথে সাথে তার পিতার বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে তাকে পানি বা তেল মাখানো শুরু করে।অবস্থার কোন পরিবর্তন না হলে ফুলবাড়ি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু, ততক্ষনে সব শেষ। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। চিকিৎসক কর্তৃক পুলিশ খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন ফুলবাড়ী থানার তৎকালীন সেকেন্ড অফিসার এসআই জিয়াউর রহমান।তিনি ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জেনে, জনাব আশিষ বিন হাসান, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ফুলবাড়ি সার্কেল, দিনাজপুর সাহেবকে মোবাইলে বিষয়টি অবগত করেন।” তখন সার্কেল সাহেব বলেন,তাহলে তো আর কিছুই বলার নাই। পরিবার পরিজন কি বলে?এসআই জিয়া বলেন- “তারা বিনা ময়না তদন্তে লাশ চায়!তাদের কোন অভিযোগ নাই! শরীরে কোন আঘাত বা হত্যার চিহ্ন বা আলামতও নাই।”তখন তিনি বলেন, তাহলে জিডি করে লাশ দিয়ে দিলেই তো হয়।এসআই জিয়া বলেন-“আমি এমনিতে লাশ দিতে নারাজ। কেননা ২৭/২৮ বছরের মেয়ে দিনে দুপুরে হঠাৎ ক্যামনে মারা যায়, জানা দরকার।”

ইতোমধ্যেই পানি অনেক দূর গড়ালো। পুলিশ লাশ না দিয়ে থানায় আনায় এলাকাবাসী ক্ষেপে গেল। সেকেন্ড অফিসারের গুষ্ঠি উদ্ধার করলো। রাতে যখন সার্কেল সাহেব মাইক্রোবাসে রাখা লাশটা দেখতে গিয়ে ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখলেন তখন তাঁর মনে হচ্ছিলো মেয়েটা ঘুমাচ্ছে। কোন অস্বাভাবিক কিছুই নাই। হঠাৎ খেয়াল করে দেখলেন মেয়েটার নাকের কাছে হালকা আঁচড়ের মত একটা দাগ।এসআই জিয়া বললেন – কেউ হয়তো নাকফুল খুলে নেওয়ার সময় তার নখের আঁচড় লাগিয়েছে। সার্কেল সাহেব তখন ভালোভাবে খোঁজ নিতে বললেন, কে নিয়েছে নাকফুল জানা দরকার। জানা গেল কেউই এ বিষয়ে কিছুই জানে না। এরপর মনের মধ্যে খটকা লাগে সার্কেল সাহেবের। কিন্তু, কিছুই বের করা গেল না। পরদিন যথারীতি লাশ পোস্টমর্টেম হল। লাশ বিনা ময়না তদন্তে হস্তান্তর না করায় অনেকেই সাব ইন্সপেক্টর জিয়ার মুন্ডুপাতসহ আন্তরিকভাবে তার জন্য বদ দোয়া করলো। কিন্তু,এসআই জিয়ার কোন বিকার নাই। অভিজ্ঞ সাব ইন্সপেক্টর তিনি। স্বল্পসময়ের মধ্যেই ভিকটিমের ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করে ফেললেন।

জানা গেল মেয়েটার নাম ফেলানী! বিবাহিতা! সপ্তম শ্রেণীতে পড়া তের বছরের একটা মেয়েও আছে। অভাবের সংসার। অতঃপর সার্কেল সাহেব ও এসআই জিয়া মেয়েটার বাড়িতে গেলেন। গিয়ে দেখলেন অভাবের সংসার হলেও ঘরটা বেশ পরিপাটি। কিছু সৌখিন আসবাবও রয়েছে ঘরে। জানা গেল স্বামী নয়, ফেলানীই এসব কিনেছে। যার আয় নাই, রোজগার নাই সে কিভাবে এত কিছু কিনলো? মনে প্রশ্ন জাগতে শুরু করলো। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা শুরু হল।

খবর নিয়ে জানা গেল, ফেলানী মাঠে ছাগল চড়াতে যাওয়ার সময় তার সাথে ছাতা ছিল। অনেকেই ছাতার ডাট বাঁকা অবস্থায় ফেলানীর পাশে পড়ে থাকতে দেখেছেন। কিন্তু অনেক খোঁজ করেও সেই ছাতার হদিস পাওয়া গেল না। ফেলানির বাবা বললেন -মেয়েটা হয় স্ট্রোক করে মরেছে নয়তো ভূতে মেরেছে। আমরা যেন খামোখা তাদের বিরক্ত না করি। ফেলানির ফোন নম্বর চাইলেও তারা দিতে পারলেন না।

এর মধ্যে কেটে গেল বেশ কিছু দিন। পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট এলো! জানা গেল শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে মেয়েটাকে। আবার শুরু হল তোড়জোড়। কিন্তু, কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। তখন সবাই হাল ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু, হাল হাড়লো না দুইটা লোক। এক হল সাব ইন্সপেক্টর জিয়া আর এক হল ফুলবাড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মাহমুদুল হাসান। তারা ফেলানির পরিবারের সবার ফোনগুলির কল লিস্ট নিতে থাকলেন। প্রায় ৫০/৬০ টা কল লিস্টের বিশ্লেষণ শেষে আবিষ্কার হল – ফেলানী গোপনে কোন একটা ফোন ব্যবহার করতো। সেই ফোন কোথায় গেল?

আবার শুরু হল খোঁচাখুঁচি। দেখা গেল ফেলানীর ব্যবহৃত সেটটা গাজীপুরে ব্যবহার হচ্ছে। এর মধ্যে এসে গেল করোনা। একেবারে বাড়া ভাতে ছাই পড়ার মত অবস্থা। কিন্তু, আল্লাহ চাইলে কি না হয়। হঠাৎ ৯ মাস পর একদিন ফোনের অবস্থান ফুলবাড়িতে দেখা গেল। কৌশলে আনা হল ফোন ব্যবহারকারীকে। আনার পর ফোন ব্যবহারকারীর কথা শুনে সবাই তখন মহা হতাশ। ফোনটা নাকি তার শ্বশুর গিফট করেছে তাকে। আনা হল শ্বশুরকে। তিনি নিতান্তই সাদাসিধা মানুষ । তিনি জানালেন, ফোন কিনেছেন পুরাতন ফোন বিক্রেতার কাছ থেকে। ফোন বিক্রেতাকে আনা হল। তিনি বললেন, প্রায় এক বছর আগের কথা। কার কাছ থেকে তিনি কিনেছিলেন তা তিনি কিভাবে বলবেন? তাছাড়া এই সেট তিনিই বিক্রি করেছিলেন কিনা সেটাও মনে নাই। অতঃপর ঘটনা এখানেই শেষ। রহস্যের কিছুই উদ্ধার হল না।

ভগ্ন হৃদয়ে ফোন বিক্রেতাকে যখন সার্কেল সাহেব বিদায় দিবেন তখন ফোন বিক্রেতা বললেন -” স্যার ফোনটা একটু হাতে দেন। আমি যে ফোন বেচি দেখলে চিনতে পারি।” ফোনটা হাতে নিয়ে ২/১ মিনিট দেখেই বললেন এই ফোন আমি বেচি নাই। কেননা এর স্কুর উপর স্টিকার লাগানো। মানে এই ফোন এক বারও খোলা হয় নাই। আমি যেসব ফোন বেচি সেগুলো সাধারণত নষ্ট থাকে। আমি খুলে পার্টস বদলায়ে তারপর বেচি। এটা আমার দোকানের না। এই কথা শুনে শ্বশুর মশাই মহা রেগে গেলেন।

তখন পুলিশের মনে হতে লাগলো শ্বশুর মনে হয় কিছু লুকাচ্ছেন। পুলিশ তখন চিন্তা করলো – যেহেতু ফেলানির নাকফুল মিসিং ছিল, অতএব সেটা হত্যাকারী আশে পাশেই কোথাও বেঁচতে পারে। প্রথমেই খোঁজ নেওয়া হলো শ্বশুর মশাইয়ের সাথে কোন স্বর্ণকারের ভাব আছে কিনা। জানা গেল এক জনের সাথে তার বেশ খাতির। এরপর সেখানে লোক পাঠিয়ে নানামুখী জেরায় জানা গেল প্রায় এক বছর আগে এই লোক এমন কিছু ঐ দোকানে বেঁচতে গিয়েছিল। কিন্তু, শেষমেষ দামে পরতা না হওয়ায় বিক্রি করে নাই।

শ্বশুরের বউকে মানে শ্বাশুড়ী আম্মাকে ডাকা হল। তিনি নিতান্তই সহজ সরল মহিলা!পুলিশ তখন তার সাথে ধর্মবোন পাতালেন। চা নাস্তা করিয়ে শুনে নিলেন শ্বশুর মহাশয়ের ইতিবৃত্ত । জানা গেল, এই লোক মহা বদ মেজাজী। কোন কাজ করেনা। শুধু ফুটানি করে বেড়ায়। বহু বছর পূর্বে স্কুলছাত্রীকে উত্যক্ত করায় হাজত খেটেছে ১৪ দিন। গোপনে আরও ২/৩ টা বিয়ে করেছে। মেয়ে দেখলেই চান্স নিতে চায়। তাছাড়া তার বউকে সে কোনদিন গহনা কিনেই দেয় নাই, তাই বউয়ের কোন গহনা বিক্রির প্রশ্নই আসে না। আরও জিজ্ঞেস করতেই জানা গেল- বছর খানেক আগে সে এক দিন সন্ধ্যায় গায়ে পায়ে কাদা মাখা অবস্থায় বাড়ি ফিরেছিল। এরপর ৪/৫ দিন ঘরের বাইরে যায়নি। জ্বর না থাকলেও বলেছে তার জ্বর এসেছে।

বিষয়গুলি অশুভ কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। এসব সব কিছু একত্রিত করে পুনরায় জিজ্ঞেসাবাদ শুরু হল। এই লোকও নাছোড়বান্দা । হারতে নারাজ। কিন্তু, পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মাহামুদুল সাহেব আর ওসি সাহেবের জেরার মুখে অবশেষে রাত তিনটায় তিনি স্বীকার করেন যে, ফেলানীকে তিনিই মেরেছেন । মূলত ফেলানীর সাথে ছিল তার পরোকিয়া প্রেম। বহুবার তারা মেলামেশা করেছে। ঘটনার দিনও ভালই যাচ্ছিল। কিন্তু, ঐদিন ধানক্ষেতের আইলে মেলামেশার পর ফেলানী তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু, তিনি রাজি না হওয়ায় ফেলানী তাকে গালি দেয় এবং সব ফাঁস করে দেবার হুমকি দেয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাগ সামলাতে না পেরে ফেলানীর গলা টিপে ধরেন তিনি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফেলানীর মৃত্যু ঘটে। এতে ভয় পেয়ে যান তিনি।এরপর দ্রুত বাড়ি চলে যান।
ঘটনা এখানেই শেষ। আসামি তার দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে এরপর কেউ এস আই জিয়াকে ধন্যবাদ দেয়নি। অভিশাপ তুলে নিয়েছে কিনা জানাযায় নি। এসআই জিয়ারা অবশ্য এসবের আশাও করেন না। তবে নিশ্চিত দূরাকাশে বসে ফেলানী নিশ্চয়ই জিয়াদের মত পুলিশের জন্য দোয়া করছে।

ও হা! একটা জিনিস হয়তো সবাই ভুল বুঝছেন। শ্বশুর মানে ফেলানির শ্বশুর নন। শ্বশুর হল যার কাছ থেকে ফোন উদ্ধার হয়েছিল তার শ্বশুর। এই শ্বশুর খুন করার পর ফেলানির ফোনটা নিয়ে গিয়ে কয়েক মাস বন্ধ রেখে তার মেয়ের জামাইকে গিফট করেছিল। জামাই কিছুই জানেন না।যে শ্বশুর খুনি।

উল্লেখ্য, এসআই জিয়াউর রহমান বর্তমানে দিনাজপুর ঘোড়াঘাট থানায় সেকেন্ড অফিসার হিসাবে সদ্য জয়েন্ট করে দ্বায়িত্ব পালন করছেন।ইতি মধ্যে তিনি থানার আইন-শৃংখলা রক্ষা ও মাদক উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..