মাটিরাঙ্গার আমতলী চেয়ারম্যানের স্বচ্ছতায় ২২পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়ে খুশি

আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি
আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:০১ পূর্বাহ্ন, ৩১ জুলাই ২০২১ | আপডেট: ৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, ১৯ অক্টোবর ২০২১

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার ৮নং আমতলী  ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে প্রতিবন্ধী, বিধবাসহ পাহাড়ি-বাঙালী ২২পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর  স্বচ্ছতার সাথে বুঝিয়ে দেয়ায় কৃতজ্ঞ সুবিধা ভোগীরা।

শুক্রবার(৩০ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে,

উপজেলার ৮নং আমতলী ইউনিয়নে ২২টি অসহায় হত-দরিদ্র গৃহহীন ও ভূমিহীন পাহাড়ি-বাঙালী পরিবার পেয়েছে তাদের স্বপ্নের ঠিকানা। ১৯টি ঘরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় পাহাড়ি-বাঙালি সুবিধা ভোগীরা পরিবার পরিজন নিয়ে পরম সুখে বসবাস করতে দেখা গেছে। এছাড়াও ৩টি ঘরের (ছাউনি দেয়া) নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। 

উপাশিং ত্রিপুরা পাড়ায় ১১ত্রিপুরা পরিবারের মধ্যে ২পরিবার খের চন্দ্র ত্রিপুরা ও কেশ মোহন ত্রিপুরার ভাঙা-ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখে মানবিক চেয়ারম্যান মো.আবদুল গনিকে বিষয়টি অবগত করেন আরেক মানবিক ওয়ার্ড সদস্য মো.ইউনুছ মিয়া।  চেয়ারম্যানের আন্তরিকতাপূর্ণ প্রচেষ্টায় ত্রিপুরা গোষ্ঠীর ১১পরিবােরর মাঝে ২গৃহহীন অসহায় পরিবার ঝুঁপড়ি ঘর ছেড়ে পাকা গৃহে বসবাস করতে পেরে  অত্যান্ত আবেগ আপ্লূত হয়ে তাদের সন্তুষ্টির অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে। 

 ওই এলাকার উপকারভোগী মোঃ বিল্লাল হোসেন, শুভ রঞ্জন ত্রিপুরা, পারচুল রাত ত্রিপুরা, শাহজাহানসহ অন্যান্যরা জানান, তাদের মাথা গোঁজার কোন ঠাঁই ছিল না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ঘর পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। তারা বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর চেয়ারম্যান মেম্বারগণ স্বচ্ছতার সাথে নির্মাণ করে বুঝিয়ে দেয়ায় তাদের এ অবদানের কথা আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণে রাখবো। 

আমাদের মতো ভূমিহীনদের জন্য পাকা গৃহের সাথে ভুমির ব্যাবস্থা করে দেয়ায় আমরা প্রধানমন্ত্রী, পিআইও রাজ কুমার শীল, চেয়ারম্যান আবদুল গণি, সদস্য ইউনুস, সদস্য সঞ্জিব শর্মাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা, আন্তরের অন্তস্থল থেকে দোওয়া ও দীর্ঘায়ূ কামনা করি। 

উপকারভোগী ওয়াদূদ মেম্বার পাড়ার জাহানারা বেগম বলেন, “আমার জায়গা জমি ছিলো না। পরের বাড়ি কাজকর্ম করতাম ও পরের জায়গায় মা ও বাচ্চাদের নিয়ে ভাঙা বাড়িতে থাকতাম। জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। এখন আমাদের মেম্বার ইউনুছ মিয়া জায়গা দিয়েছে, মা জননী হাসিনা, আব্দুল গনি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ঘর দিয়েছে, আমরা তাতে অত্যন্ত খুশি। তাদের জন্য নামাজ পড়ে মোনাজাত করব। আমাদের মতো গরিবদের পাশে যেন তারা সারা জীবন থাকতে পারেন। আমাদের চোখের পানিটা যেন মুছে যায়।বিনামূল্যে জমি-ঘর পাবো কোনোদিন ভাবিনি। এ পাকা ঘরে বসবাস করা আমাদের জন্য একটি স্বপ্ন ছিল। দোওয়া করি প্রধানমন্ত্রী সারা পৃথিবীর কাছে যেন  সম্মান পায়।

রোফেজা বেগম, পিতা মৃত আব্বাস আলী জানান, আমি একেবারে নিঃস্ব অসহায় হতদরিদ্র। চেয়ারম্যানের কাছে একটি ঘরের আবেদন করি সে আমাকে ঘরের জায়গার ব্যবস্থা করতে বলেন। কিন্তু আমার নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থায় এক খন্ড জমি কেনার টাকাও ছিলো না। আমার এই অসহায়ত্ব দেখে চেয়ারম্যান তার নিজের থেকে ৩০হাজার টাকা আমাকে সাহায্য করেছেন। এ টাকা পেয়ে আমি এক টুকরো জায়গা নেয়ার পর চেয়ারম্যান আমার জন্য পাকা ঘর করে দিয়েছেন। এ উপকারের কথা আমরা কোন দিন ভুলতে পারবো না। তিনি অশ্রুশিক্ত নয়নে বলেন, এমন করে এতো গুলো টাকা দিয়ে সাহায্য না করলে এ জনমে হয়তো জায়গা ও গৃহ কোনটাই পেতামনা। চেয়ারম্যান এ ভাবে অসহায় হত-দরিদ্র মানুষের পাশে থেকে যেন সেবা করতে পারেন তার জন্য আল্লাহর কাছে সবসময়ই দোওয়া করি।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজ কুমার শীল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক নিয়োগকৃত তদারকি কর্মকর্তার যাচাই-বাচাইয়ের মাধ্যমে হতদরিদ্র, দুস্থ, প্রতিবন্ধী, বিধবাদের অগ্রধিকার ভিত্তিতে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য সকল ইউনিয়নে গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে কিছু ঘরের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

৮নং আমতলী  ইউনিয়নের দুর্গম এলাকাসহ নির্মিত সকল ঘর উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির তত্বাবধানে অত্যন্ত মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 

৮নং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গনি বলেন,

মাটিরাঙ্গা উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের মতো আমতলী ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ২২টি ঘর পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, তারা সকলেই ঘরগুলোর গুণগত মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, আমার ইউনিয়নে বসবাসরত অসহায় হত-দরিদ্র অনেক পরিবারের গৃহ ও ভূমি না থাকায় আমি নিজ অর্থায়নে ও আমার ওয়ার্ড মেম্বারগন সাধ্যমতো জায়গার ব্যাবস্থা করে গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছেন। আমার বাড়ির পার্শ্ববর্তী  রোফেজা বেগম অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায় হওয়ায় আমি নিজ অর্থায়নে তাকে জায়গার ব্যাবস্থা করে গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছি। আমার এলাকার সকল সুবিধাভোগী পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘরগুলোতে বসবাস করতে পেরে আনন্দিত।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য স্বচ্ছতার সাথে নির্মাণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা  করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।