শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত: সাপাহারে অবিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

মনিরুল ইসলাম,সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি
মনিরুল ইসলাম,সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম,সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ন, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ | আপডেট: ৫:১০ পূর্বাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২১

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে থমকে গেছিলো সারা বিশ্ব। যার প্রভাবে বন্ধ ছিলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ নানাবিধ কার্যক্রম। কিন্তু সম্প্রতিকালে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। যার ফলস্বরূপ  দীর্ঘ দেড় বছর পর আগামীকাল ১২ সেপ্টেম্বরে সারাদেশে খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলাকে কেন্দ্র করে নওগাঁর সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহারের বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্কুল ড্রেস বানানো নিয়ে অবিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য ।

উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা পাওয়ার পরেই শ্রেণীকক্ষ, অফিসরুম ও মাঠ পরিস্কারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কর্র্তৃপক্ষ। ধুলা-ময়লা ও আবর্জনা পরিস্কার করছেন পূর্ণ উদ্যম নিয়ে। করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘ দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি অংশ যেন ধুলায় ধুসরিত! সেগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রেখে এবং সরকার কর্তৃক নির্দেশনা বাস্তবায়নে সকল পদক্ষেপ গ্রহন করছেন সকল স্কুল কর্তৃপক্ষ। যেন প্রতিটি কাজেই নতুন উদ্যম খুঁজে পাচ্ছেন তারা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলায় অনেকটা চাঞ্চল্য ও আনন্দ বিরাজ করছে শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের মাঝে।  

সাপাহারের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পাইলট স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাজেদুল আলম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ায় আমরা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অনেক সাধুবাদ জানাই। আমরা  সরকার প্রদদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত ধোয়ার নির্দিষ্ট স্থান সহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাশ করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করছি। আর দীর্ঘদিন পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ক্লাশ রুমগুলো অনেক ময়লা হবার ফলে সেগুলো পরিস্কার করছি।

শিক্ষার্থী অবিভাবক ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক বাবুল আকতার বলেন, “অনেক দিন পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানাই। শিক্ষার্থীরা ঘরমুখী থাকার পরে শিক্ষা কার্যক্রম অনেকটা ব্যহত হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার খবর পেয়ে আমরা অবিভাবকগণ অনেকটা আনন্দিত। এখন শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানমূখী হলে আবারো শিক্ষা ব্যবস্থা পূর্বরূপে ফিরে আসবে বলে আশা করছি”।

কোমলমতি একাধিক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় অনেকটা আনন্দ ও উচ্ছাস প্রকাশ করে। সবমিলিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তে যেন অবিভাবক ও শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।