অবশেষে একসাথে-পর্ব:০৩

কাজী ফরহাদ
কাজী ফরহাদ কাজী ফরহাদ
প্রকাশিত: ১০:৩৬ অপরাহ্ন, ১১ জুলাই ২০২১ | আপডেট: ৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২১

মুঠোফোন হাতে করে ফারিহা আসে রাতুলের কাছে। গ্যালারিতে ঢুকে ছবি দেখায় ফারিহা।
” এই দেখ ভাইয়া! এই হলো নীলা।
ছবি দেখে রাতুল অবাক হয়। বিস্মিত হয়ে হলে,
” ওহ মাই গড! এ মেয়ে অবশেষে, আমার বাসায় এসে পৌঁছে গেছে।
রাতুল কথা শুনে ফারিহা বলে,
” সবকিছু জেনেও তুই শুধু শুধু ভাব দেখাস কেন ভাই?
রাতুল রেগে যায়! রাগান্বিত কন্ঠে বলে,
” বিশ্বাস করো তোমরা, এ মেয়ের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।
রহমত আলী মুখ খুলেছেন, রাতুলকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
” যদি সম্পর্ক না-ই থাকে, তাহলে মেয়েটি কেন নিজের মুখের বলে গেল তুইও ভালোবাসিস।
বাবার কথায় রাতুল চুপ হয়। কোনো কথা আসছে না মুখ দিয়ে।
রেজিয়া খাতুন বললেন,
” কিরে, চুপ করে আছিস কেন? সম্পর্ক যদি থেকে থাকে আমাদের বল! ভালোবাসা কী অন্যায় নাকি? আমরা তো চাই তুই কারো সঙ্গে সম্পর্কে যা।
রাতুল খুব ঠান্ডা মাথায় বলল,
” বাবা দেখ! তুমি কী তোমার ছেলেকে চিন না। ছেলের সম্পর্কে জানো না। আজ পযন্ত কী তোমাদের না জানিয়ে আমি কোনো কাজ করেছি।
রহমত আলী বার বার একই কথা বলছেন,
” দেখ বাবা! তুমি হয়তো ভয়ে আমাদের প্রেম সম্পর্কে কিছু বলোনি। তাই আমি আবারো বলছি নীলাকে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। আমি নীলাকে বউ’মা হিসেবে এই বাসায় দেখতে চাই।
বাবার কথা শুনে রাতুল মায়ের কাছে যায়। মা’কে জড়িয়ে ধরে বলে,
” মা তুমি তো আমাকে বড্ড ভালোবাস। আমি একটা কথা বলি, তোমরা অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক করলে আমি চোখ বন্ধ করে বিয়ে করে ফেলব। তবুও নীলাকে বিয়ে করতে পারব না।
রাতুলের কথা শুনে মা রেজিয়া খাতুন সহজ জবাব দিলেন,
” চোখ বন্ধ করে বিয়ে করার প্রয়োজন নেই। তুমি বরং, চোখ খুলেই নীলাকে বিয়ে করো।
বড্ড রাগ হয় রাতুলের। মা’কে বলে,
” মা তুমিও। যাও তোমাদের সঙ্গে আমার কোনো কথা নেই।

পরের দিন সকালে রাতুল রেস্টুরেন্টে যায়। দুপুরের দিকে নীলাও রেস্টুরেন্টে গেল। নীলাকে দেখে রাতুল রেগে যায়। কটকটে মেজাজে নীলার কাছে যায়, জিজ্ঞেস করে,
” এই যে আপনার সমস্যা কী?
নীলা হেসে ফেলল, হাসি দেখে রাগটা আরেকটু বেড়ে যায় রাতুলের। আবার জিজ্ঞেস করে,
” বেহায়ার মতো না হেসে বলুন, আপনার সমস্যা কী?
” আমার আবার কী সমস্যা হবে! আই এম ফাইন।
” কার অনুমতি নিয়ে আমার বাসায় গেছেন?
” কী অবাক কান্ড! কারো বাসায় যেতে হলে কী অনুমতি নিতে হয় নাকি?
” হ্যাঁ অবশ্যই অনুমতি লাগে। কারন এ বাসা ভদ্রলোকের।
” ওরে আমার ভদ্রলোক! শুনেন, বাসার সামনে লিখে রাখবেন, এ বাসা ভদ্রলোকের। দয়া করে ভেতরে কেউ প্রবেশ করবেন না।
” আমার বাসার সামনে আমি কী লেখব না লিখব সেটা আমার নিজের ব্যাক্তিগত ব্যাপার। আপনি বলার কে?
” এভাবে কী কেউ, কোনো যুবতী মেয়ের সঙ্গে কথা বলে?
নীলার প্রতিটি কথায় রাতুলের গা জ্বলে! রাগ হয়, কিন্তু কিছু বলতে পারছে না। রাগ করে রেস্টুরেন্ট থেকে বাসায় চলে যায়।

রাতুলকে বাসায় দেখে রহমান আলী জিজ্ঞেস করেন,
” এত তারাতাড়ি বাসায় চলে আসলে যে?
চুপচাপ উত্তর দেয় রাতুল,
” এমনিতে ভালো লাগছে না।
রহমত আলী লক্ষ্য করে দেখছেন, রাতুলের চেহারায় রাগের চাপ। তিনি বুঝতে পারছেন, রেস্টুরেন্টে কোনো ঝামেলা হয়েছে। এই ব্যাপারে আর কিছু জিজ্ঞেস করেননি। ফোন হাতে নিয়ে ম্যানেজারকে কল করলেন।
কল রিসিভ করে ম্যানেজার সালাম করল, সালামের উত্তর দিয়ে রহমত আলী জিজ্ঞেস করলেন,
” রাতুল দেখলাম বাসায় চলে এসেছে! কোনো সমস্যা বা ঝামেলা হয়েছে নাকি?
” না স্যার কোনো ঝামেলা হয়নি। একটা মেয়ে এসেছিল, তারপর দেখলাম রাতুল স্যার মেয়েটির সঙ্গে অদ্ভুত আচরণ করলেন। দ্যান রেস্টুরেন্ট থেকে বাহির হয়ে গেলেন।
” ওহ আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে।
” ওকে স্যার আসসালামু আলাইকুম।

ফারিহার সঙ্গে বেশ খানেক সময় ধরে আড্ডা দিচ্ছে নীলা। অনেক গল্প-উপন্যাস নিয়ে কথা হচ্ছে। রাতুলের বইগুলো চুরি করে করে ফারিহা পড়ে। লুকিয়ে লুকিয়ে ডায়েরি পড়ে। ল্যাপটপ অপেন করে দেখে কার সঙ্গে চ্যাটিং হয়। কার সঙ্গে ডেটিং হয়। ফারিহার কাছ থেকে এমন অদ্ভুত গল্প শুনে নীলা হাসে। হাসলে নীলার গালে ঢুল পড়ে। বেশ হিংসা হয় ফারিহার। মনে মনে রাগ হয়। নিজেই নিজেকে জিজ্ঞেস করে, কেন আমার ঢুল পড়ে না। ফারিহার কাছ থেকে নীলা খবর নেয়। রাতুল কী খেতে ভালোবাসে, কী কালারের টি শার্ট পছন্দ করে। কেমন মেয়ে তার পছন্দ। কখন কোথায় থাকে। ফারিহা বলতে থাকে,
” আসলে ভাইয়া একটা অদ্ভুত টাইপের মানুষ। খুব অগোছালো। প্রতিদিন আমি ভাইয়ার রুম গুছিয়ে দেই। ভাইয়ার নেশা হচ্ছে বই পড়া। প্রচুর বই পড়ে। গল্প,কবিতা-উপন্যাস, জীবন কাহিনী। আরো কত কী। তুই কী জানিস! ভাইয়া অনেক সুন্দর কবিতা লিখে। আমি রোজ ডায়েরি পড়ি। কবিতাগুলো আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। ইচ্ছে করে ভাইয়ার ভাবনাগুলো চুরি করি। ভাইয়া সবসময় কালো কালারের শার্ট বা গেঞ্জি পড়ে। গত ঈদে আমি একটা পাঞ্জাবী গিফট করেছিলাম। কালার ছিল নীল, ভাইয়ার নীল কালার একদম পছন্দ না! তবুও পাঞ্জাবীটা পড়ে, আমি দিয়েছি বলে। ভাইয়া কফি খেতে ভীষণ পছন্দ করে। আমি রোজ কফি বানিয়ে দেই ভাইয়াকে।
ফারিহার মুখ থেকে রাতুলের ব্যাপারে জেনে নীলার আগ্রহ বাড়ে। ইচ্ছে হয়, রাতুলকে জীবন সঙ্গী করতে। রাতুলের কফি বানানোর জন্য হলেও বিয়ে করতে চায়। কিন্তু আফসোস, রাতুল হয়তো কখনো নীলাকে পছন্দ করবে না। নীলার ইচ্ছে হয় রাতুলের লেখা কবিতা পড়বে। ফারিহাকে বলে একদিন রাতুকের অজান্তে বাসায় যাবে। কবিতা পড়বে।

চলবে..........