করোনা যুদ্ধে টিকে থাকা চিকিৎসক নব দম্পত্তির কথা

আপেল মাহমুদ, রংপুর জেলা প্রতিনিধি
আপেল মাহমুদ, রংপুর জেলা প্রতিনিধি আপেল মাহমুদ, রংপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:০০ অপরাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২১ | আপডেট: ৫:১৪ পূর্বাহ্ন, ২৬ অক্টোবর ২০২১

বিশ্ব ব্যাপী ঘাতক করোনা মহামারী যখন জনজীবনে আঘাত হানছে ঠিক তখনই নিজেদের চিন্তা কিংবা পরিবার পরিজনের চিন্তা না করে দেশের জন্য নিজেদের জীবন করোনা যুদ্ধে উৎস্বর্গ করে দিয়েছেন রংপুরের তরুণ চিকিৎসক নব দম্পত্তি। তারা হলেন- ডা: রিফাত মাহমুদ ও তার স্ত্রী ডা: নূর-ই-সাবা আশা।

জানা গেছে- রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলুশন হাসপাতালে করোনার শুরু থেকে অদ্যবধি নিরলস চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছে রংপুরের তরুণ এই চিকিৎসক দম্পতি। আমাদের জানা নেই বাংলাদেশের কোথাও আর কোন চিকিৎসক দম্পতি এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছে কিনা, আমাদের দৃষ্টির অগোচরে থাকতেও পারে, আবার হতেও পারে এরাই প্রথম দম্পতি যারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে দেশের সেবায় নিয়োজিত আত্নত্যাগী তরুণ চিকিৎসক ডা: রিফাত মাহমুদের জন্ম দিনাজপুর জেলায়। তবে দিনাজপুরে জন্ম হলেও তার শিশু, কৈশোর, বেড়ে ওঠা আর পড়াশুনা বর্তমান তার কর্মস্থল রংপুরেই। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিটে করোনার প্রথম থেকেই যুক্ত রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন তার মা দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনে ভুগছেন, এর আগে মাইনর স্ট্রোকও করেছিলেন তার মমতাময়ী মা।

নানা রকমের অসুস্থতায় প্রতিদিন খেতে হয় একগাদা ঔষুধ, সাথে রয়েছে অবাক করার মতো ইনসুলিনের ডোজ যা জানলে হয়তো আপনি অবাক হবেন । তার বাড়িতে দুই মানুষ ছাড়া আর কেউ নেই। ডা: রিফাত মাহমুদ তার মায়ের একমাত্র ছেলে। তার অসুস্থ মা বাসায় একায় থাকে, করোনা পরিস্থিতিতে তিনি হাসপাতাল ছেড়ে যেতে না পেরে তার অসুস্থ মাকে দেখেন নি কয়েক মাস ।

এখন একটু ভাবুন তার মনের কষ্টগুলো, কিন্তু শত কষ্ট বুকে চেপেও তিনি দেশ মায়ের সেবার ব্রত নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের করোনা ইউনিটে সঠিকভাবে পালন করছে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব। এখন ডা: রিফাত মাহমুদের গল্প বন্ধ করি। তার সাথে করোনা যুদ্ধের অন্যতম আরেকজন করোনা সৈনিক হলেন দম্পতি ডা: নূর - ই- সাবা আশা। জন্ম যার রাজশাহী জেলায়।

কিন্তু তিনি এমবিবিএস পাশ করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে। তিনিও তার স্বামীর সঙ্গে করোনায় প্রথম থেকেই রংপুর করোনা ডেডিকেটেড আইসোলুশন ইউনিটে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে যাচ্ছেন রোগীদের। বিয়ের পর তিনি হয়তো ভেবেছিলেন বৈবাহিক জীবনের প্রথম ঈদটি করবেন তার শ্বশুর বাড়িতে। সেখানে সকলের সঙ্গে মজা করবে, রোগীদের সেবার পাশাপাশি এবার নতুন জীবনে পদার্পন করে সেবা করবেন অসুস্থ শ্বাশুড়ীর, কিন্ত না তিনি তার বিয়ের পর প্রথম ঈদটি করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের সেবা করে ।

বিষয়টি জেনে সত্যিই গা-শিউরে ওঠে, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য এত বড় আত্নত্যাগের? আমরা কতজনই জানি বা জানার চেষ্টা করি দেশের ক্লান্তি-লগ্নে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের সেবা দেয়া এই মানুষ গুলোর কতকষ্ট ও কত-ত্যাগ।

করোনাকালীন এই মহামারীতে ডা: রিফাত মাহমুদ ও তার স্ত্রী ডা: নূর-ই-সাবা আশা তাদের জন্য দোয়া চেয়েছেন। আমরা সকলেই তাদের জন্য দোয়া করি আমাদের সেবা দেয়া এই মানুষগুলোকে মহান আল্লাহ যেন সুস্থ রাখেন।